বুধবার | ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইন্টারনেট সহজলভ্য করতে বাড়ছে পাবলিক ওয়াই-ফাই!!

 ইন্টারনেট সহজলভ্য করতে বাড়ছে পাবলিক ওয়াই-ফাই!!

দৈনিক সংবাদ অনলাইন প্রতিনিধি :-দেশে সস্তা ও সহজলভ্য ইন্টারনেট পরিষেবা আরও বিস্তৃত করতে বড় পদক্ষেপ নিল টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা ট্রাই। আজ, সোমবার সংস্থা প্রকাশ করেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শপত্র, যার মূল বিষয় দেশজুড়ে পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের দ্রুত বিস্তার। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে টেলিকম ক্ষেত্র, ডিজিটাল পরিষেবা ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ট্রাই সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট পরিষেবার বড় অংশই মোবাইল ডেটা-নির্ভর। ফলে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুতগতির ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে এখনও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাবলিক ওয়াই-ফাই হটস্পটের সংখ্যা বাড়ানোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাদের মতে, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, বাজার এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে গ্রামীণ হাট-বাজার সব জায়গাতেই যদি সহজলভ্য ওয়াই-ফাই পরিষেবা গড়ে তোলা যায়, তাহলে ডিজিটাল পরিষেবার ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

পরামর্শপত্রে পরিস্থিতির একটি বিশদ পর্যালোচনা তুলে ধরেছে। কোথায় কতসংখ্যক পাবলিক ওয়াই-ফাই রয়েছে, কোন অঞ্চলে এর ঘাটতি বেশি এবং ব্যবহারকারীদের চাহিদা কীভাবে বদলাচ্ছে এসব দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক
ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মডেলও খতিয়ে দেখা হয়েছে, যাতে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও কার্যকর নীতি প্রণয়ন করা যেতে পারে।

তবে শুধুমাত্র পরিকাঠামো বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মনে করছে ট্রাই। সংস্থার মতে, পাবলিক ওয়াই-ফাই সম্প্রসারণে কয়েকটি বড় বাধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্যবসায়িক মডেলের অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগের অভাব, লাইসেন্সিং ও নিয়মকানুনের জটিলতা এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের সীমিত আগ্রহ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, কম খরচে পরিষেবা দেওয়ার কারণে এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাই বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মতামত আহ্বান করেছে। টেলিকম সংস্থা, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। ও কীভাবে পাবলিক ওয়াই-ফাইকে আরও লাভজনক ও টেকসই করা যায়, কীভাবে গ্রামীণ এলাকায় দ্রুত পরিষেবা পৌঁছানো সম্ভব এবং কী ধরনের নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

একদিকে যেমন মোবাইল ডেটার উপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ই-গভর্ন্যান্স ও অনলাইন ব্যবসার প্রসার ঘটবে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও গ্রামীণ ভারতের মতো অঞ্চলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে, যেখানে এখনও উচ্চগতির ইন্টারনেট একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের বিস্তারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। ট্রাই-এর এই পদক্ষেপ সেই দিকেই এক বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *