শনিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলার জনবিন্যাস কাঠামো বদলে দিচ্ছে তৃণমূল, তীব্র কটাক্ষ হিমন্তের

 বাংলার জনবিন্যাস কাঠামো বদলে দিচ্ছে তৃণমূল, তীব্র কটাক্ষ হিমন্তের

সাংবাদিক সম্মেলনে হিমন্ত বিশ্বশর্মা

কলকাতা, ২৫ এপ্রিল – বাংলার অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে রাজ্যের জনবিন্যাস কাঠামো বদলে যাচ্ছে বলে শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার কারণেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

            বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নানা প্রান্তে সভা করছেন হিমন্ত। ইতিমধ্যে বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। আর সেই প্রথম দফায় বিজেপি ১১০ টি আসনে জয়লাভ করবে বলে দাবি করা হয়েছে বিজেপির তরফে। এদিনও সেই একই দাবি করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, বাংলায় এবার ২০০ দু’শোর বেশি আসনে জিতে সরকার গঠন করবে বিজেপি। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব হয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস কাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং আসাম একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। যদি একটি রাজ্যেও সীমান্ত খোলা থাকে এবং সেখান দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটে তাহলে তার প্রভাব পুরো দেশে পড়বে। আসামেও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে উল্লেখ্যযোগ্য হারে সংখ্যালঘু বেড়ে গেছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা অনুপ্রবেশের ইঙ্গিতবাহী। তিনি সতর্ক করে দেন যে, আগামী ২০ বছরে এই অবস্থা চললে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য সংকটে পড়বে।’

            বাংলার তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের কাজ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার কারণে আটকে রয়েছে। ৪৫৬ কিমি সম্ভাব্য কাঁটাতারের কাজের মধ্যে রাজ্য সরকার মাত্র ৭৭ কিমি জমি হস্তান্তর করেছে। অসম , ত্রিপুরায় জোরকদমে কাজ চললেও এখানে হচ্ছে না।’ কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২৫,০০০ টাকা জরিমানাও করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, উত্তর দিনাজপুরে ভোটার বেড়েছে ১০৫ শতাংশ, মালদায় ৯৪.৮ শতাংশ। এছাড়াও তিনি আরও অন্যান্য সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ব্যাপকহারে ভোটার বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরেন। বাংলার তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘তুষ্টিকরণ এবং সীমান্তে ড্রাগ পাচার, নোট পাচারের আর্থিক লাভের কারণে এই সরকার অনুপ্রবেশ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না।’

            আসামের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অন্য রাজ্য থেকে কোনও নেতা বা সাংবাদিক এই রাজ্যে আসুন তা তৃণমূল চায় না। তার কারণ, রাজ্যের আসল সত্যটা তাহলে সামনে চলে আসবে। তিনি তৃণমূলকে প্রশ্ন করেন, ‘তৃণমূল যখন অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়ে প্রচারে যায় তখন কোনও সমস্যা নেই অথচ আসাম বা অন্য রাজ্য থেকে কেউ এলেই কেন তৃণমূলের আপত্তি শুরু হয়ে যায়? বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুধু বলেন, বাংলায় এসে বাংলা ভাষা বলতে পারেন না। আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই, তিনি তো মেঘালয়ে গিয়েছিলেন, তিনি কী খাসি বা গারু ভাষায় কথা বলতে পারেন? আমি তো ভাঙা বাংলায় কিছুটা কথা বলতে পারব, বাংলার দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) খাসি ভাষায় কথা বলতে পারবেন তো?’

            ওড়িশা ও আসামের তুলনা টেনে হিমন্তের দাবি, বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গকে পুনরায় ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোন্নত রাজ্যে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শুধু একটি রাজ্য নির্বাচন নয়, এটি উত্তর-পূর্ব ভারত ও দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুপ্রবেশ রুখতে এবং বাংলার মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করতে কড়া সীমান্ত নীতি প্রণয়নের ওপর তিনি জোর দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *