বুধবার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬

কবিতা : দূর্বাঞ্জলি রায়

 কবিতা : দূর্বাঞ্জলি রায়

কোনো এক বসন্ত বিকেলে

কোনো এক বসন্ত বিকেলে,
উড়ো পাখপাখালির পালে,
পেতে থাকি কান—
কোকিলের কুহু রবে,
ভেসে আসে যেন জীবনের গান।

এই যে পথে পথে থেমে থেমে,
চলিছে জীবনের কথা,
মাটির শরীরে জেগে আছে যে তৃষ্ণা,
সে কি ফিরিবে আবার?
এই আকাশের নীলে,
নরম রোদের চুম্বনে,
এ সবুজ দেশে,
আসিবে কি এ পথে আবার?

এই দেহ,
এই ধুলো মাখা বিছানায়,
এই মাটির নিঃসাড় শরীরে,
ব্যথার সুখের নীড়ে,
আসিবে কি নামি আবার?

এই জীবনে,
জীবনের স্বাদ মাঝে,
প্রেমের পায়ের শব্দ যেন
বেঁচে থাকে—
হৃদয়ে গন্ধের মতো,
ধূপের মতো জ্বলে,
ধূসর স্বপ্নের কথা।

গোধূলির অস্পষ্ট আকাশে,
সন্ধ্যার ধূপে ভেসে,
আবার আসিবে কি ফিরে—
এই জ্যোৎস্না আর নক্ষত্রের নীড়ে!

বসন্তে জেহাদ

বারুদের মাঠে হঠাৎ ফোটে শিমুলের আগুন,
কেউ ভাবে যুদ্ধ—আমি বলি বসন্ত।
মানচিত্রটা আজ কাঁটাতারের বেহালা,
তার ছিঁড়ে গেলেও কোথাও সুর রয়ে যায়।
আমি একমুঠো আবির ছুঁড়ে দিই অন্ধ আকাশে—
হয়তো তা পৌঁছোয় না, তবু মিলিয়ে যায় জীবনের রঙিন স্রোতে।
কারণ ভালোবাসাই একমাত্র—
নীরব, অথচ এক জেদি বিস্ফোরণ।

সেই মেয়েটি

আজ নাকি ভালোবাসার দিন!
বসন্ত দিনে পলাশে সেজে উঠেছে।
বছর পনেরোর ফ্রক-পরা মেয়েটি একদিন
জলফড়িংয়ের খোঁজে ঘাসে ঘাসে পথ হারায়।
কোমল আঙুল দিয়ে চুপটি করে ছুঁয়ে দেখে ভালোবাসার রং—অজস্র গভীর রং, পালকের মতো।

রুপোমাখা চোখে জ্যোৎস্না যেন আলোকিত করে যায় তার মন।খড়কুটো দিয়ে যে আলো জ্বেলেছে তার হৃদয়,তাতে সুখ আর সাধ ছাড়া আর কিছুই নেই তখন।

তারপর রাত আরও বাড়তে থাকে।
ঘাসের উপর আঁধার জমে, অবিরল।অভিজ্ঞতা যেন স্পষ্ট হয় অন্ধকারে।
নিজস্ব পাণ্ডুলিপিখানা যত্নে লালন করে সে—
রক্তে, ক্লেশে চুপেচাপে সঞ্চয় করে।একদিন বিকেলের মরচে রঙা স্থির মেঘে জন্ম নেয় এক আতুর কাক।

ধীরে ধীরে আলো কমে আসে, বিস্ময় নিভে যায় আরও।
এখন প্রেমে সেই রক্ত নেই আর,
আঘাতেও নেই সেই আগের ভয়।
মনে হয়, ভালোবাসার জন দূরত্বেই সুন্দর—
সে চলে যাক, বিচ্ছেদের জলছবি এঁকে দিয়ে।

কোলাহলের সাম্রাজ্য ভেঙে গেলে
কোনো কলরব থাকেনা আর।
জীবন যেন আরও প্রগাঢ় হয়ে ওঠে।
জীবন অনেক দিয়েছে মেয়েটিকে,
তবু একদিন সে ছুটি দেয়। পড়ে থাকে নীরব মাখা একফালি বসন্ত বিকেল।ভালোবাসা জেগে থাকে প্রজাপতির মতো—নিজের প্রাণের সাথে,এই সবুজে…
পড়ে থাকে আধখানা লুকোনো বিস্ময়—
অথবা বিস্ময় নয়, দেয় শুধু শান্তি—বাদামি পাতার মতো শান্ত, স্নিগ্ধ এক ঘ্রাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *