ওমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ২৮ মে : আমেরিকার এক বন্ধুরাষ্ট্র এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের রোষের মুখে পড়ল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। আর সেই আবহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতায় গেলে ওমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন ট্রাম্প।

            আমেরিকার অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবেই পরিচিত ওমান। বিগত কয়েকদশক ধরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ওমানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। বুধবার (স্থানীয় সময়ে) মার্কিন ক্যাবিনেটের বৈঠকের সময়ে উপসাগরীয় সেই বন্ধুদেশের উপর চটেছেন ট্রাম্প। তার বিরক্তির কারণ সেই হরমুজ় প্রণালী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে খবর ছড়ায়, হরমুজ দিয়ে চলাচল করা জাহাজের থেকে ওমানের সঙ্গে যৌথ ভাবে খাজনা আদায়ের কথা ভাবছে ইরান। ওমানের সঙ্গে এ বিষয়ে ইরানের কথাবার্তাও চলছে। এই খবর পেয়ে ওমানের উপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। তারপরেই বোমো মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

            ট্রাম্প বলেছেন, ‘ওমানকেও অন্য দেশগুলির মতো আচরণ করতে হবে। নয়তো আমরা ওদের উড়িয়ে দেব। ওরা (ওমান) তা বিলক্ষণ বোঝে। ওদের নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।’ এই হুমকি দেওয়ার পরক্ষণেই ট্রাম্প অবশ্য জানান, আমেরিকাকে শেষ পর্যন্ত এমন কোনও পদক্ষেপ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন না। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ চলাকালীন হরমুজ়ের উপর একতরফা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে তেহরান। প্রথমে পছন্দসই দেশগুলির জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী নির্বিঘ্নে পার করার ‘ছাড়পত্র’ দেয় তারা। পরে জানা যায়, ওই জলপথ দিয়ে চলাচল করা সব জাহাজের থেকে ‘খাজনা’ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান।

            বুধবার ইরানের সরকারি টেলিভিশনে দাবি করা হয়, ইরান এবং ওমান যৌথ ভাবে হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। এই সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়াও তাদের হাতে এসেছে বলে দাবি করে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম। তবে ট্রাম্পের দাবি, এমন কিছুই হয়নি। মার্কিন ক্যাবিনেটের বৈঠকে ইরানের সরকারি টেলিভিশনের ওই রিপোর্ট খারিজ করে দেন তিনি।

Sumit Chakraborty: