যে পুঁচকে ছেলেটাকে বাথটাবে স্নান করিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধেই ফাইনালে খেলবেন মেসি

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: ফ্রেমে বাঁধা কোনো ধরাবাঁধা দৃশ্য নয়, ক্যামেরায় ধরা পড়বে এক পরম মমতা। লিওনেল মেসি পরম যত্নে ছোট্ট লামিন ইয়ামালকে চোখে চোখে রাখবেন, স্নান শেষে গা-হাত-পা মুছিয়ে কোলে নিয়ে আদর করবেন। আর এই পুরো অন্তরঙ্গ ও আবেগময় মুহূর্তটি ফ্রেমবন্দি করবেন আলোকচিত্রী জোন মনফর্ট।

আজ থেকে ১৭ বছর আগের এই গল্পটি কোনো কল্পনা নয়, এক অদ্ভুত বাস্তব। ইউরোর ফাইনালের ঠিক আগে ন্যু ক্যাম্পের লকার রুমের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মনফর্ট বলেন, “সেদিনের সেই ফোটোশুটটি ছিল ভীষণ ‘চ্যালেঞ্জিং’। আর তার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল তরুণ মেসির মাত্রাতিরিক্ত লাজুকতা।”

এমনিতেই মেসি স্বভাবলাজুক, তার ওপর তখন বয়স মাত্র ২০। নিজের চেনা খোলস ছেড়ে বেরোতেই পারছিলেন না তিনি। একটা প্লাস্টিকের টবে বসে থাকা সম্পূর্ণ অচেনা এক শিশুকে স্নান করানো, গা মুছিয়ে কোলে নেওয়া এবং পুরো সময়টা মুখে চেনা হাসি ধরে রাখা—গোটা বিষয়টিই যেন মেসির কাছে গোলমেলে লাগছিল। বারবার থতমত খেয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে ছবি তোলা, আর শুধু তোলাই নয়—ছবির ভেতরের মানুষ ও মুহূর্তকে জীবন্ত করে তোলা যে কতটা কঠিন, তা মনফর্ট খুব ভালো করেই বুঝেছিলেন। তিনি বলেন, “মেসি ভীষণ মুখচোরা ছেলে ছিল। ছটফটে লামিনকে কীভাবে কোলে তুলবে, কীভাবে গা মোছাবে, সেটাই ও বুঝে উঠতে পারছিল না।” কিন্তু অভিজ্ঞ মনফর্ট খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্ব বুঝতেন। তরুণ ফুটবলারের ভেতরের জড়তা ভেঙে কীভাবে তাকে সহজ করতে হবে, কীভাবে সেই লাজুক ছেলের মুখ থেকে এক চিলতে দিলখোলা হাসি বের করে আনতে হবে—সেই জাদু মনফর্টের জানা ছিল। তাই কিছুটা কৌশলী চেষ্টার পর লিওনেল মেসিকে লামিন ইয়ামালের সাথে এক আত্মিক বন্ধনে বেঁধে ফেলেন তিনি। মাত্র দশ মিনিটের নির্ধারিত ফটোশুট শেষ হতে সময় লেগেছিল প্রায় চল্লিশ মিনিট। আর ফটোশুট শেষে দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য—পুঁচকে লামিনের সাথে মেসির এতটাই সখ্যতা হয়ে গেছে যে, মায়ের কোলে ফেরার আগে সে মেসির আঙুলটাই ছাড়তে চাইছিল না। মনফর্ট যেন সেদিনের সেই বিশ্বসেরা ফুটবলারের ভেতর থেকে তার হারিয়ে যাওয়া শৈশবটাকেই ক্যামেরার লেন্সে ছেঁকে এনেছিলেন।

১৭ বছর আগের সেই অবুঝ শিশু লামিন ইয়ামাল আজ বার্সেলোনা ও স্পেনের ফুটবলের প্রধান কাণ্ডারি। চলতি টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নাচিয়ে ছেড়েছেন, সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধেও উপহার দিয়েছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। অন্যদিকে, ৩৯ বছর বয়সে এসেও মেসি সমান উজ্জ্বল। গোল করা আর করানো—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি রয়েছেন গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল জেতার দৌড়ে। কিন্তু আজ মেসির সেই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন সেদিনের সেই পুঁচকে ইয়ামাল। বাথটাবে বসে যে শিশুটি মেসির আঙুল ছাড়তে চায়নি, আজ সেই লড়বে মেসির শ্রেষ্ঠত্বের বিরুদ্ধে।

সময় ও বাস্তবতার চাকা ঘুরে আজ দুজনে মুখোমুখি। আসলেই, পৃথিবীটা বড্ড গোল!

লেখাটির টোন বা উপস্থাপনা অন্য কোনোভাবে পরিবর্তন করতে চাইলে জানাতে পারেন।

Sujoy Guha: