দলের প্রতিষ্ঠা দিবসেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলার প্রসঙ্গ
প্রতিষ্ঠা দিবসে দলের কার্যকর্তাদের প্রশংসায় মোদি
নয়াদিল্লি, ৬ এপ্রিল – দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে এবার ভোটমুখী বাংলার কথা প্রধানমন্ত্রীর গলায়। সোমবার নিজের বক্তব্যে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজনৈতিক হিংসার আঁতুড়ঘর। দক্ষিণ ভারতের কেরলের প্রসঙ্গেও একই অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই দুই রাজ্যেই হিংসা আজ ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসবের মধ্যেও যে তাদের দলের কার্যকর্তারা ভয় পাননি এবং মাথা নত করেননি সেজন্য তাদের প্রশংসা করেন মোদি।
দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলের নেতা ও কর্মীদের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কংগ্রেস জমানার অপশাসনের দিকে আঙুল তুলে বিজেপির উত্থান ও ক্রমশ গোটা দেশে গেরুয়া শিবিরের শক্তিবৃদ্ধির সাফল্য তুলে ধরেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই মোদির মুখে উঠে আসে বাংলা ও কেরল প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘বাংলা, কেরলে দেখেছি, কী ভাবে হিংসাকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি করা হয়েছে। বিজেপি কর্মীরা এই পরিস্থিতিতেও ভয় পাননি। মাথা নত করেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজও দেশসেবার কাজ করছেন কর্মীরা। সবাইকে প্রণাম জানাচ্ছি। বিজেপি একমাত্র দল, যেখানে আমরা সকলে পার্টিকে মা মনে করি।’
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায় থেকে লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশীদের উদ্দেশ্যে প্রণাম জানান তিনি। কংগ্রেস জমানার প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, ‘১৯৮৪ সালের কথা ভুলতে পারি না। কংগ্রেস রেকর্ড আসনে জিতেছিল। কিন্তু দেশের জনতা দেখেছিল, কংগ্রেস কী ভাবে ক্ষমতা পেয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।’ কংগ্রেস ‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি’ বলেও কটাক্ষেপ সুর শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস এক পরিবার নিয়ে চলেছে। বাকিদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। বিজেপি তা করেনি। ভারতের সব মহান সন্তানকে সম্মান দিয়েছে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনকে পরাক্রম দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। ২৬ জানুয়ারির কুচকাওয়াজে আজাদ হিন্দ ফৌজকে কুর্নিশ জানানো হয়েছে। কংগ্রেস সরকার ভাবতেই পারত না।’ তার সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কী কী কাজ করেছে সেই কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোদি বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ জম্মু কাশ্মীরের জন্য আত্মবলিদান দেন। একটা সময় সেখানে ৩৭০ ধারা রদ অসম্ভব মনে করা হত। কিন্তু বিজেপির লক্ষ্য ছিল এটা হবে। তা করে দেখিয়েছে। ইংরেজের জমানার কালো আইন বন্ধ করেছি, সিএএ আইন, নতুন আইন এনে তিন তালাক বন্ধ, অযোধ্যায় রামমন্দির— অনেক কাজ আমাদের সৎ চেষ্টার ফল।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মিশন জারি। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, এক দেশ এক ভোট— এগুলো নিয়ে দেশে গভীর আলোচনা হচ্ছে।’