বুধবার | ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধোনা সনিয়ার

 মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধোনা সনিয়ার

নয়াদিল্লি, ১৩ এপ্রিল : দেশের দুই রাজ্য তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে এখন ভোটের প্রচার তুঙ্গে। আর সেই আবহে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের এমন আচরণের সমালোচনায় সরব হলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তার অভিযোগ, এই নতুন বিলের আড়ালে আসলে গণতন্ত্রকে হত্যার চেষ্টা চলছে। আঘাত আসতে চলেছে ভারতীয় সংবিধানের উপর।

            আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এখন এই বিলে সংশোধনী আনতে চাইছে কেন্দ্র। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া বিলে উল্লেখ ছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। এই সংশোধনী নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সোনিয়া।

            একটি সম্পাদকীয়তে কংগ্রেস নেত্রী লিখেছেন, ‘২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। সেটাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে চলেছে মোদি সরকার। অতীতে জনগণনার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস হয়ে এসেছে। কিন্তু মোদি সরকার চাইছে, জনগণনার আগেই আসন পুনর্বিন্যাস হোক। জাতিগত গণনার কোনও প্রভাব যেন আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে আদমসুমারির রিপোর্ট প্রকাশ আরও পিছিয়ে দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।’ এইভাবে আসন পুনর্বিন্যাস হলে বহু রাজ্যের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন সোনিয়া গান্ধী।

            বিল পাশ করাতে কেন্দ্রের এত হুড়োহুড়ি কিসের সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সম্পাদকীয়তে  তিনি আরও লিখেছেন, ‘কংগ্রেস চেয়েছিল ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন থেকেই কার্যকর হোক মহিলা সংরক্ষণ। সেটা কেন্দ্র হতে দেয়নি। যখন দুই রাজ্যে জোরকদমে ভোটের কার্যাবলি চলছে, সেই সময়ে কেন তাড়াহুড়ো করে বিল পাশ করাতে চাইছে কেন্দ্র? কয়েকদিন পরে বাদল অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করা গেল না কেন?’ বিশেষ অধিবেশন ডাকা হলেও কোন কোন বিষয়ে সেখানে আলোচনা হবে সেটা এখনও সাংসদদের জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন সোনিয়া। তার আশঙ্কা, সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কোনও প্রস্তাব পেশ করে তা পাশ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে মোদি সরকার।

            অন্যদিকে, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংশোধনী বিলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি এখানে কাউকে উপদেশ দিতে আসিনি। এসেছি শুধুমাত্র মহিলাদের আশীর্বাদ নিতে। গণতান্ত্রিক কাঠামোতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কয়েক দশক ধরে সকলেই অনুভব করছেন। এই আলোচনার পর্যায়েই চার দশক কেটে গিয়েছে। বহু রাজনৈতিক দল ও বহু প্রজন্মের প্রচেষ্টা এর সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি দলই এই ধারনাকে নিজস্ব পন্থায় এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আমি মনে করি মহিলা সংরক্ষণের লক্ষ্যে আমাদের এই উদ্যোগ একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *