শুক্রবার | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

SIR আতঙ্কে রাজ্যে প্রতিদিন ৩–৪ জনের আত্মহত্যা, দায় নিক কমিশন ও কেন্দ্র: মমতা

 SIR আতঙ্কে রাজ্যে প্রতিদিন ৩–৪ জনের আত্মহত্যা, দায় নিক কমিশন ও কেন্দ্র: মমতা

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার দাবি করেছেন, রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের জেরে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার জন আত্মহত্যা করছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ইতিমধ্যেই ১১০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং আরও ৪০–৪৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত বছর পর আমাদের আবার প্রমাণ করতে হচ্ছে—আমরা কি এই দেশের নাগরিক?”

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু, বি আর আম্বেদকর ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো দেশের মহান ব্যক্তিত্বদের অবমাননা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে—ভাষা, সংস্কৃতি ও কৃতীদের প্রতি অসম্মান ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। কেন্দ্রের বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজির কল্পনায় গড়া পরিকল্পনা কমিশন তুলে দিয়ে নীতি আয়োগ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, নেতাজির জন্মদিনকে এখনও জাতীয় ছুটি ঘোষণা না করায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

মমতার অভিযোগ, বিজেপির “গেরুয়া শিবির” তাদের নিজস্ব ইতিহাসের ব্যাখ্যা মানুষের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে, যা দেশের প্রকৃত ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর কথায়, “মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, গণতন্ত্রকে পিষে ফেলা হচ্ছে।”

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডানদিকে) ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, শুক্রবার, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছেন।

SIR প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গাত্মক প্রশ্ন তোলেন—নেতাজি বেঁচে থাকলে কি তাঁকেও ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র নামে শুনানিতে ডেকে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হতো? মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, লজিক্যাল ত্রুটির অজুহাতে নির্বাচন কমিশন ১.৩৮ কোটি মানুষকে শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে এবং খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তাঁর মতে, মোট সংখ্যা দুই কোটিতে পৌঁছতে পারে।

বাংলার উপাধি বানানের বৈচিত্র্যের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁর নিজের পদবি ‘Banerjee’ ও ‘Bandopadhyay’—দু’ভাবেই লেখা হয়। অথচ এই বিষয়টি SIR পরিচালনাকারীদের জানা নেই বলেই এত মানুষের নামে নোটিস যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রবীণ নাগরিকদেরও শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে—যা দুর্ভাগ্যজনক। বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ওরা ঠিক করে দেবে বাচ্চা জন্মাবে কি না; ইতিমধ্যেই মানুষ কী খাবে, কী খাবে না—তাও বলে দিচ্ছে।”

মানবতার বিরুদ্ধে অমানবিকতার লড়াই চলছে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা টানেন। নেতাজির ‘দিল্লি চলো’ স্লোগানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানবতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সেই স্লোগান আবার তুলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *