শনিবার | ১১ এপ্রিল ২০২৬

কবিতা : আমাদের বসন্ত

 কবিতা : আমাদের বসন্ত

গোপা রায়

আমাদের কোনো বসন্ত নেই।
ঘুম থেকে উঠে সকাল সকাল মা উনুন ধরায়।
শুকনো ডালপালা কুড়িয়ে আনে বাড়ির পাশের ঘন ঝোপের জঙ্গল থেকে।
তোমাদের টেবিলে যখন ফলের জুস, স্যালাড আর বাটার টোস্ট,
আমাদের তখন আগের দিন রাতে জল দিয়ে রাখা পান্তা ভাত, লঙ্কা আর এক টুকরো পেঁয়াজ,
সেটাও জোটে বাজারদর দেখে।
সাদা ভাত আমাদের স্বপ্ন।
ঐ রাস্তার মোড়ে বাঁদিকে একটা খাবারের দোকান পড়ে,
কত লোক আসে সেখানে—সন্ধেবেলায়।
লাল-নীল আলো জ্বেলে ওরা নাকি হলুদ ভাত খায়, শুনেছি।
ঐ যে গো আমাদের বস্তির কলপাড় লাগোয়া ঝুপড়িতে যে ছেলেটা থাকে—
তার নাম মদন।
সে নাকি এঁটো বাসন ধুয়ে মাস ফুরোলে দু’হাজার টাকা মাইনে পায় সেখান থেকে।
একদিন তার কাছে শুনেছি ভাত নাকি আবার হলুদও হয়,
মিষ্টি মিষ্টি, সঙ্গে কত রকমের বাদাম আর লাল-সবুজ কী মশলা থাকে।
ফেলে দেওয়া প্লেট থেকে একদিন একটু মুখে দিয়েছিল সে।
—”মাইরি বলছি, দু’দিন খেলে আমাদের মতো সাদা ভাত আর মুখে রুচবে না”।
হ্যাঁ গো—খুব জোর দিয়ে বলছিল সে
সেদিন সে কথাটা।
আমাদের বাপু ফকফকে সাদা ভাতই অমৃত।
মা যখন দেবী অন্নপূর্ণা হয়ে জুঁই ফুলের মতো বেড়ে নিয়ে আসে সাদা ভাত,
আমরা ভাই-বোনেরা মিলে তখন মায়ের হাতের অমৃত মুখে তুলি।
সাদা তো শান্তির প্রতীক।
অভাবের সংসারে দুটো সাদা ভাত
আমাদের শান্তি—
আমাদের বসন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *