সোমবার | ১১ মে ২০২৬

অপারেশন বিজয়

 অপারেশন বিজয়

এদেশে ২০১৪ সালের পর থেকে অপারেশন লোটাস দেখতে দেখতে বেজায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল মানুষজন।এরই মধ্যে বহুদিন পর তামিলভূমে নিঃশব্দে এক অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশন বিজয়, আপাতত এই অভিযানের প্রাথমিক ধাপ সম্পূর্ণ হয়েছে। আরেকটি পর্যায় বাকি রয়েছে। বিধানসভায় আস্থা ভোট অর্জন। ৬ দশক পর তামিলনাড়ুর রাশ গেল এক অদ্রাবিড় রাজনীতিকের হাতে। নেপথ্যে ছিলেন দিল্লির এক কারিগর। নাম তার রাহুল গান্ধী। আর অপারেশনের যিনি কমান্ডার তিনি হলেন ‘বিজয়। বিজয় থলপতি, তামিল ভাষায় থলপতি মানে হচ্ছে কমান্ডার। সেই কমান্ডারের হাতে এবার তামিলনাড়ুর ভার। ৪ মে সে রাজ্যে ফল ঘোষণার পর থেকে কম সংঘর্ষ করতে হয়নি বিজয়কে। এর পেছনে দিল্লির দীনদয়াল মার্গের যে কলকাঠি ছিল তা সবাই উপলব্ধি করেছিলেন।আর এ কাজে লাগানো হয়েছিল লোভানকেও।

কিন্তু কংগ্রেসর এক চালে সেই সম্ভাবনা আপাতত ভেস্তে গেছে। ভবিষ্যতে কী হবে না হবে তা নিয়ে সংশয় থাকতেই পারে। কিন্তু আপাতত দিল্লির ইন্দিরা ভবনের চালে তামিলনাডুতে অপারেশন বিজয় সুসম্পন্ন হয়েছে।

দু বছর আগে বিজয় তামিলনাডুতে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করলেও রাজনীতির গলিতে তার প্রবেশ ২০১১ সাল থেকে। তখন ক্ষমতায় এআইএডিএমকে। যে সময় বিজয় নয়া রাজনৈতিক দল না করলেও তার ফ্যান ক্লাব এটি তৈরি করেছিলেন। হয়তো তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতিতে তার জল মাপতে চেয়েছিলেন বিজয় সেই সময় থেকেই। এআইএডিএমকেকে সমর্থন করেছিল বিজয়। একরপর ২০১৯ সালে সিএফ বিরোধী আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা নিয়েছিলেন বিজয়। ২০২২ সালে রাজ্যের স্থানীয় পুর ও নগর নিগম নির্বাচনে বিজয়ের ফ্যান ক্লাব ১১৫টি আসল দখল করেছিল। এরপর ২০২৪ সাল। তামিল সুপারস্টার বিজয় আলবিদা জানান মিডিয়ার স্ক্রিনকে। গঠন করেন নয়া দল। টিভিকে। তামিলাগা ভেটার কাজাগাম। ভেটরি নামে একটি সিনেমায় তার অভিষেক হয়েছিলো শিশুশিল্পী হিসাবে।সালটা ১৯৮৪।

গত ৫ দশক ধরে অর্থাৎ এমজিআর জমানা থেকে তামিলভূমে রাজত্ব ছিল দুই দ্রাবিড় পার্টির। একদিকে ডিএমকে এবং অন্যদিকে এআইএডিএমকে। এমজিআরের পরবর্তীতে তার উত্তরাধিকারী জয়ললিতা অন্যদিকে ডিএমকে’র কে করুণানিধি। তামিলনাডুর আপামর জনতা এর বাইরে আর কিছু চিন্তা করেনি। মাঝখানে রজনীকান্ত, কমল হাসানরা চেষ্টা করেছিলেন জমি খুঁজে পেতে। কিন্তু পাননি। কিন্তু বিজয় সেদিক দিয়ে সফল। দল গড়ে প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে লড়েই বাজিমাত। একেবারে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে। গত বছর তার এক সভায় পদপিষ্টের ঘটনায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিলেন। এ নিয়ে হই চই দানা বাধলে বিজয় নিহতদের পরিবার পরিজনদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেন।

এবারের বিজয়ের নয়া ইনিংস শুরু হল। নির্বাচনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবার তাকে তা পালন করতে হবে। মেয়েদের বিয়ের সময় সোনা, অবিবাহিত মেয়েদের পেয়েছেন আর্থিক সাহায্য সহ নানা প্রতিশ্রুতির ডালি সাজিয়েছিলেন বিজয়। সমর্থন পেয়েছিলেন বিশেষ কর নবপ্রজন্মের।

তামিলনাড়ুকে ইতিহাস সৃষ্টি করা থলপতি বিজয় রাজ্যবাসীর স্বপ্নপূরণ করতে পারে কিনা তাই এখন দেখার। গত ৫ দশক ধরে তামিলনাড়ু দেখেছে ২ দ্রাবিড় দলের লড়াই এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে থলপতি বিজয়কে।

কংগ্রেস এবার জাতীয়স্তরের রাজনীতিতে বহুদিন পর বিজেপিকে কোনো স্পেস দিতে চায়নি। কংগ্রেস চেয়েছে বিজেপি তথা এনডিএ’র আরেকটি সরকার গঠন থেকে তাদেরকে দূরে রাখা। সেজন্যই কংগ্রেস দীর্ঘদিনের ডিএমকে’র হাত ছেড়ে থলপতির হাত ধরেছে। আসলে কংগ্রেসের এটা মোড় ঘোরানো কোন সিদ্ধান্ত কিনা সেটার জবাব অবশ্যই সময়ই দেবে। তবে আপাতত এটুকু বলা যায় বিজয় তামিলনাড়ুর চিরাচরিত রাজনীতিকে ভেঙে অন্য খাতে রাজ্যকে নিয়ে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সেক্ষেত্রে সে সফল হতে পারে কিনা তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *