অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা : বিশ্ব ফুটবলের মহারণ FIFA বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই দেখা গেল উত্তেজনা, নাটকীয়তা এবং একাধিক লাল কার্ডের ঝড়। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল স্বাগতিক মেক্সিকো।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দ্রুত গোলের ইতিহাস নতুন নয়। ২০০৬ সালে জার্মানির হয়ে ফিলিপ লাম মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় গোল করে বিশ্বকাপের পর্দা তুলেছিলেন। সেই স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৯ মিনিটের আগেই গোল করে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান কুইনোনেজ।
দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রোনওয়েন উইলিয়ামস ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সিথলের উদ্দেশে একটি সহজ পাস বাড়ান। কিন্তু সেই বলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কুইনোনেজ গোল করে বসেন। ম্যাচের শুরুতেই এমন ভুলের খেসারত দিতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দশা আরও বাড়ে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫০ মিনিটে গোলমুখী গুতিয়েরেসকে আটকাতে গিয়ে ফাউল করেন সিথলে। শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে বল প্রয়োগ করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখান ব্রাজিলের রেফারি উইলটন সাম্পাইও।
ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় আফ্রিকার দলটি।সংখ্যাগত সুবিধাকে কাজে লাগাতে দেরি করেনি মেক্সিকো। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে একটি দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল জিমিনেজ। সেই গোল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।তবে ম্যাচের উত্তাপ শুধু গোলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দুই দলের আক্রমণাত্মক ও শারীরিক ফুটবলের কারণে বারবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয় রেফারিকে। পুরো ম্যাচে তিনবার লাল কার্ড এবং তিনবার হলুদ কার্ড দেখাতে হয়।
ইনজুরি সময়ের ৯২ মিনিটে মেক্সিকোর সিজার মন্টেসও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা পরবর্তী ম্যাচের আগে মেক্সিকোর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠে আজতেকা স্টেডিয়াম। ঘরের মাঠে নিজেদের গোলদুর্গ অক্ষত রেখে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় মেক্সিকো। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দিল না, বরং শিরোপার লড়াইয়ে স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।বিশ্বকাপ ২০২৬-এর যাত্রা শুরু হল মেক্সিকোর জয় দিয়ে। এখন দেখার, এই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কতদূর এগোতে পারে স্বাগতিকরা।