অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: ফাইনালের হতাশা ভুলে বিশ্বকাপ শেষ করল দুর্দান্ত জয়ে। মিয়ামি স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান দখল করল ইংল্যান্ড। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবলে ভরা এই ম্যাচ বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা আক্রমণের ঝড় তোলেন। বোকায়ো সাকার দুরন্ত পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় থমাস টুখেলের দল। সাকা একাই হ্যাটট্রিক করে ফ্রান্সের রক্ষণকে কার্যত ভেঙে দেন। তাঁর পাশাপাশি গোল করেন ডেকলান রাইস, এজরি কনসা এবং জুড বেলিংহ্যাম।
প্রথমার্ধে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়লেও ফ্রান্স দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে দুটি গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দেন। ফরাসিদের ধারাবাহিক আক্রমণে একসময় ব্যবধান অনেকটাই কমে আসে এবং ম্যাচ জমে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে আরও দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে।
এই ম্যাচে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন। তবে ব্যক্তিগত কৃতিত্ব দলকে তৃতীয় স্থান এনে দিতে পারেনি। অন্যদিকে সাকার হ্যাটট্রিক এবং বেলিংহ্যামের অনবদ্য পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের অন্যতম সেরা সমাপ্তি এনে দিল।
ম্যাচটি ছিল গোলের বন্যায় ভরা। দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং একের পর এক গোল দর্শকদের দারুণ বিনোদন দেয়। ১০ গোলের এই লড়াই বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলোর ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁর জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এটিই ছিল শেষ ম্যাচ। দীর্ঘ ১৪ বছরের সফল অধ্যায় শেষ হলেও বিদায়ী ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ততা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে।