সোমবার | ২২ জুন ২০২৬

পাঁচ গোল— বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মহাকাব্য লিখছেন লিওনেল মেসি

 পাঁচ গোল— বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মহাকাব্য লিখছেন লিওনেল মেসি

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: ফুটবল ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি এসেছেন, অনেকেই রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু সময়কে বারবার হারিয়ে দিয়ে, বয়সকে উপহাস করে, বিশ্বমঞ্চে নিজেকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা খুব কম ফুটবলারের আছে। আর সেই তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছেন লিও মেসি Lionel Messi।

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্স যেন আবারও প্রমাণ করে দিল— মেসি শুধুই একজন ফুটবলার নন, তিনি এক চলমান ইতিহাস। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে তিনি শুধু আর্জেন্টিনাকে জয়ের পথে এগিয়ে দেননি, বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের কিংবদন্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছেন। এর আগে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ফলে মাত্র দুই ম্যাচেই তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে।

বয়স শুধু সংখ্যা

২২ জুনের ম্যাচে মাঠে নামার সময় মেসির বয়স ছিল ৩৮ বছর। অধিকাংশ ফুটবলার এই বয়সে অবসর নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। কিন্তু মেসি এখনও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তাঁর দৌড় হয়তো আগের মতো বিস্ফোরক নয়, কিন্তু খেলার বুদ্ধি, পাসের নিখুঁততা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং গোলের ক্ষুধা এখনও তরুণদের লজ্জায় ফেলে দেয়।

অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে একটি পেনাল্টি মিস করার পরও তিনি ভেঙে পড়েননি। বরং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং গোল করে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করেন।

বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতাঅস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে মেসি পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন। জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ১৭-তে।এটা শুধু একটি রেকর্ড নয়। এটা এমন এক যাত্রার স্বীকৃতি, যা শুরু হয়েছিল ২০০৬ বিশ্বকাপে এক কিশোর প্রতিভার হাত ধরে। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলে তিনি এখন এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো নাম খুব কম।

২০০৬ থেকে ২০২৬: দুই দশকের বিশ্বকাপ সাম্রাজ্যবিশ বছর আগে জার্মানির বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন মেসি। তখন তিনি ছিলেন ভবিষ্যতের তারকা। আজ তিনি ইতিহাসের সম্রাট।

২০০৬: প্রথম বিশ্বকাপ গোল

২০১৪: আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলা

২০২২: বিশ্বকাপ জয়

২০২৬: সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং দুই ম্যাচে পাঁচ গোলের বিস্ফোরণএই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি শুধু গোল করেননি, আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। মারাদোনার উত্তরসূরি থেকে নিজেই এক প্রতিষ্ঠান

একসময় তাঁকে তুলনা করা হতো Diego Maradona-র সঙ্গে। প্রশ্ন ছিল, তিনি কি মারাদোনার মতো বিশ্বকাপ জিততে পারবেন?

২০২২ সালে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তিনি যেন নতুন প্রশ্ন তুলছেন— ফুটবল ইতিহাসে তাঁর চেয়ে বড় কেউ কি আছেন?

অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর গোলের পর ডালাসের স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। যেন তারা জানে, তারা শুধুমাত্র একটি ম্যাচ দেখছে না; তারা ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।আর্জেন্টিনার স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুদুই ম্যাচে পাঁচ গোল। দলের মোট চার পয়েন্টের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এখনও সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখার স্বপ্নে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসাও তিনিই।বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে অনেক মহান ফুটবলার এসেছেন। কিন্তু ৩৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে যারা এখনও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন, তাদের সংখ্যা হাতে গোনা। আর সেই বিরল তালিকার শীর্ষে আজও একটাই নাম— লিওনেল মেসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *