আগে বাংলা, পরে মণিপুর
দেশের একটি অঙ্গরাজ্য গত তিন বছর ধরে অশান্তি চলছে,হিংসা চলছে, পুড়ছে।অন্যদিকে অপর একটি অঙ্গরাজ্যের ভোটে ক্ষমতা দখলের জন্য দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাম্প করে বসে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন গঙ্গা বিহার করছেন, তখন দেশের একটি অঙ্গরাজ্য জ্বলছে, হিংসার আগুনে। অশান্তি থামার কোনো লক্ষণ নেই। মনে করিয়ে দিচ্ছে রোম নগরী যখন জ্বলছিল তখন সম্রাট নিরোও এরকমই বেহালা বাজাচ্ছিলেন। এই অবস্থা কি এখন এদেশেও চলছে? এখানে বলা হচ্ছে ভারতের পূর্বোত্তরের একটি অঙ্গরাজ্য মণিপুরে হিংসার কথা। অপরদিকে ভোটের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে জোরকদমে ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সাতদিন ধরে কলকাতায় ক্যাম্প করেছেন, প্রধানমন্ত্রী দিল্লি-কলকাতা আসা যাওয়া করছেন প্রায় প্রতিদিন।
মণিপুরে গত ২০২৩ সালের ৩রা মে থেকে অশান্তি চলছে। আজও অশান্তি থামার লক্ষণ নেই। অথচ সেই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী একদিনও যাবার সময় পাননি এখন পর্যন্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোধহয় একবার গেছিলেন। চরম ব্যর্থ বিজেপিশাসিত সরকারকে জীবিত রেখে এক বছর সে রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসনও চালানো হয়েছিল। কিন্তু হিংসা থামেনি। ফের বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। নয়া মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু গত তিন বছর ধরে রাজ্যে হিংসা থামার কোনো লক্ষণ নেই। গত শুক্রবার মণিপুরে তিনজন খুন হয়েছেন। নাগা-কুকি সংঘর্ষে। এর কিছুদিন আগে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলীতে ২জন নিহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে রাজ্যের দিকে দিকে আন্দোলন শুরু হয়েছে। মহিলারা প্রায় নগ্ন হয়ে আধা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এরও আগে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল জঙ্গিদের ছোড়া বোমাতে। এরপরও রাজ্যের অন্তত ৫ জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এক সভাকে ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। কিন্তু এরপরও কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো হেলদোল নেই। মণিপুরে গত তিন বছর ধরে হিংসা চলছে, অশান্তি চলছে অথচ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মণিপুর পা দেওয়ার সময় হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রচারটা তাদের কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ থেকে মণিপুর নিয়ে কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না। তিনি কলকাতায় ক্যাম্প করে বসে রয়েছেন একটি রাজ্যকে দখল করতে। অন্য একটি রাজ্যের মানুষ বিপন্ন। হিংসার আগুনে তারা ত্রস্ত। গত তিন বছর ধরে তারা অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি, আর কেন্দ্রীয় সরকার ব্যস্ত রাজনীতিতে। কীভাবে রাজ্য দখল করা যায়। শ্যাম, দাম, দণ্ড, ভেদ- সব অস্ত্র প্রয়োগ করে রাষ্ট্রশক্তিকে পুরো কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে কীভাবে রাজ্য দখল করা যায় তাই এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মোদি-শাহের কাছে। অন্যদিকে দল ভাঙানোর খেলাও চলছে। রাজ্যসভায় দলকে শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আপকে ভাঙিয়ে সাত সাংসদকে বিজেপিতে জয়েন করানোর খেলায় মত্ত হয় রয়েছে বিজেপি। মণিপুর জ্বলছে জ্বলুক, মহিলারা উলঙ্গ হয়ে প্রতিবাদ করুক না কেন কেন্দ্রের কিছু করার নেই। আগে বাংলা দখল করতে হবে, আপকে ভাঙতে হবে। রাজ্যসভায় দলকে শক্তিশালী করতে হবে- তাহলেই হবে। মণিপুর নিয়ে না হয় পরে ভাবা যাবে। ততদিনে মণিপুর তপ্ত কড়াইয়ে পরিণত হলেও রাজ্য পুরোপুরি আড়াআড়িভাবে প্রায় ২ টুকরো হবার উপক্রম হলেও কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চুপ। এই না হলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ সে দেশের মূল ভিত্তিই হলো কেন্দ্র এবং রাজ্য যৌথ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পরিচালিত হবে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আর কবে হুঁশ ফিরবে।