শনিবার | ১১ এপ্রিল ২০২৬

সারি-সরনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মমতার

 সারি-সরনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মমতার

ঝাড়গ্রামের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা, ১১ এপ্রিল – শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝাড়গ্রামের সভা থেকে এবার বাংলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদিবাসীদের ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। এমনকী ভোটের দিনে তার ‘আদিবাসী ভাইবোনেরা’ বাধার মুখে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেন তিনি।

            ঝাড়গ্রামের জামদা ময়দানের সভায় আদিবাসীদের ধর্ম সংক্রান্ত প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রতিশ্রুতি, বিধানসভা ভোটে জিতে তৃণমূল ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করলে আদিবাসীদের সারি-সরনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ধামসা, মাদল আছে, ভয় কী! ধামসা বাজাতে বাজাতে, মাদল বাজাতে বাজাতে, ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। আপনাদের তিরন্দাজেরা খুব শক্তিশালী।’ ঝাড়গ্রাম ছাড়াও আজ কেশিয়ারিতেও সভা করেন মমতা।

            সেখানে তিনি মাওবাদীদের নাম না করে জানালেন, ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, জঙ্গলমহলে যে সব ছেলেমেয়ে আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের হোমগার্ডের চাকরির ব্যবস্থা করবেন। শনিবার মমতার সভায় হাজির ছিলেন একদা জঙ্গলমহলের আন্দোলনের নেতা ছত্রধর মাহাতো। যে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে বারবার তৃণমূলকে তোপ দাগছেন বিজেপির নেতারা সেই প্রসঙ্গে এদিন পাল্টা মমতা বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী যদি ঢোকে, তা হলে অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত। আমরা অনুপ্রবেশকারী ঢোকাইনি। কারণ, আমাদের ঢোকানোর ক্ষমতা নেই। সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।’ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে মাছ-মাংস খেতে দেওয়া হত না বলে শনিবার ঝাড়গ্রামের সভায় অভিযোগ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই তার মন্তব্য, ‘‘আমরা তো বলি না, ছাতু খাবে না। কে কী খাবেন, কে কী পরবেন, তার উপর হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই। বাংলায় তা হতেও দেব না।’’

            অন্যদিকে, এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির জন্য ছোট্ট একটি প্রশ্ন ছুঁড়েছেন কেজরিওয়াল। তিনি প্রশ্ন করছেন, “সমস্ত স্বশাসিত সংস্থাকে কব্জা করার পর, লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম কেটে দেওয়ার পরও যদি মোদিজি বাংলা দখল করতে না পারেন তাহলে কী হবে?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *