মঙ্গলবার | ১৯ মে ২০২৬

ঝুঁকলেন পুষ্পা, ফলতায় রণে ভঙ্গ জাহাঙ্গিরের!

 ঝুঁকলেন পুষ্পা, ফলতায় রণে ভঙ্গ জাহাঙ্গিরের!

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন ঘিরে নাটকীয় মোড়। আগামী বৃহস্পতিবার ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে কার্যত রণভঙ্গ করলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। দীর্ঘদিন ধরে “পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি” ইমেজে প্রচার চালানো জাহাঙ্গির শেষমেশ ভোটের লড়াই থেকেই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন। যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর নাম EVM-এ থাকছেই। ফলে ভোটাররা চাইলে এখনও তাঁর প্রতীকেই ভোট দিতে পারবেন।

ফলতা কেন্দ্রটি ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন আগের ভোটগ্রহণ বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় “গুরুতর নির্বাচনী অনিয়ম”, ভোটার ভয় দেখানো এবং EVM-এ কারচুপির অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগ ওঠে, একাধিক বুথে বিরোধী প্রার্থীদের বোতামে টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে ভোটাররা ভোট দিতে না পারেন। কমিশন জানিয়েছিল, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচন হবে।

এই আবহেই মঙ্গলবার আচমকা জাহাঙ্গির খান ঘোষণা করেন যে তিনি পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি চাই ফলতায় শান্তি থাকুক, সুস্থ পরিবেশ থাকুক। মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছেন। তাই সোনার ফলতা গড়ে তুলতেই আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।” তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ক্রমবর্ধমান চাপ, প্রশাসনিক নজরদারি এবং বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

বিজেপি ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে তৃণমূলের “পরাজয়ের আশঙ্কা” বলে কটাক্ষ করেছে। প্রচারে গিয়ে বিরোধী শিবির “পুষ্পা ঝুঁক গয়া” স্লোগান তুলতে শুরু করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, জাহাঙ্গিরের সিদ্ধান্তের কারণ তারা এখনও পুরোপুরি জানে না।

উল্লেখযোগ্যভাবে, পুনর্নির্বাচনের আগে জাহাঙ্গির খান কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলায় যেন ভোটের আগে কোনও “কঠোর পদক্ষেপ” না নেওয়া হয়, সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত সাময়িক স্বস্তি দেয়। আদালত অবশ্য স্পষ্ট জানায়, তদন্ত চলবে এবং তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *