কারাকাস, ভেনেজুয়েলা, ২৭ জুন : পরপর দু’টি ভূমিকম্প। আর তারপর ‘আফটার শক’। আর তাতেই যেন নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা ভেনেজুয়েলাকে। দিন তিনেক আগেও উপগ্রহচিত্রে যে শহর ছিল ঝাঁ চকচকে, তিনদিন পরে সেই উপগ্রহচিত্রে ফুটে উঠেছে বিধ্বস্ত শহরের ছবি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের যে রিপোর্ট সামনে সেই অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৯২০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ক্যারিবিয়ান সমুদ্রবর্তী শহর লা গুয়াইরা শহর। দিন তিনেক আগের উপগ্রহ চিত্রের সঙ্গে দিন তিনেক পরের ছবি যেন একেবারে আলাদা। আস্ত শহর যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাতহানা দু’টি ভূমিকম্প এবং তার সঙ্গে হওয়া কয়েক ডজন ‘আফটার শকে’ ওই শহরের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারই প্রমাণ মিলেছে উপগ্রহচিত্রে। কয়েকটি উঁচু ইমারত একেবারে মাটিতে মিশে গিয়েছে। কয়েকটি গিয়েছে হেলে। একই অবস্থা গাছপালার।
ভূ-বিজ্ঞানীরা পর পর এই কম্পনকে ‘ডাবলেট’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। লা গুয়াইরা থেকে ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসের উত্তরাংশে ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, সারা দেশে এখনও পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে বহু মানুষকে। ভূ-বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজ়ুয়েলায় যত ভূমিকম্প হয়েছে, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলির মধ্যে একটি ছিল এ বারের। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেস দ্রুত দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।