এবার কলকাতার কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক ‘আসল’ তৃণমূলের

কলকাতা অফিস, ২৭ জুন– তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙণ এসেছে আগেই, তারপর ভাঙণ ধরে সংসদীয় দলে। এবার কী তবে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলার দলেও ভাঙণ আসতে চলেছে? শনিবার ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের তরফে কলকাতার তোপসিয়ায় একটি বৈঠক ডাকা হয়। আর সেখানেই আমন্ত্রণমূলক চিঠি পাঠানো হয় কলকাতার সব পদত্যাগী কাউন্সিলারকে। আর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হলেন ৪৭ জন কাউন্সিলার। যাদের মধ্যে দেবাশিস কুমার, অরূপ চক্রবর্তীর মতো পরিচিত মুখেরাও ছিলেন।

            ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই দলের পরিষদীয় দলে ভাঙণ ধরে। ঋতব্রত, সন্দীপনদের সঙ্গে যুক্ত হন তৃণমূলের ৬০ জনের বেশি বিধায়ক। বাংলায় পালাবদলের এই প্রভাব পড়েছে রাজ্যের নানা প্রান্তের তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডগুলিতে। কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফিরহাদ হাকিম। তারপরেই ঋতব্রতদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন ফিরহাদ। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উদ্যোগে নিউটাউনের একটি হোটেলে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে চেয়ারম্যান করা হয় অরূপ রায়কে। সেই বৈঠকের দিনেও বেশ কয়েকজন পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলার হাজির ছিলেন।

            আর তারপর এদিন তোপসিয়াতে কাউন্সিলারদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন এই বিদ্রোহীরা। সেখানেও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করা হয়নি। ঋতব্রতদের দাবি, তারাই আসল তৃণমূল। ইতিমধ্যে দলের অধিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনাও চালাচ্ছেন ঋতব্রতরা। বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, ‘যা সংখ্যা আমাদের কাছে আছে তাতে তো আমারাই আসল তৃণমূল। এখানে তো আলাদা কোনও আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।’ পাল্টা কালীঘাট তৃণমূলপন্থী কুণাল ঘোষ বলেন, ‘সম্পূর্ণ অনৈতিক একটি কাজ হচ্ছে। সব কাউন্সিলার তো পদত্যাগ করেছেন। তাহলে এই আলাদা সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখানোর কারণ কী। তাহলে মেয়র পদে থেকে ফিরহাদ হাকিম নিজেই তো পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখা পারতেন।’   

Sumit Chakraborty: