শুক্রবার | ১০ এপ্রিল ২০২৬

বিনোদন : আনন্দিতা সরকার

 বিনোদন : আনন্দিতা সরকার

রণবীরের কেরিয়ারে এক চূড়ান্ত পারফরম্যান্স

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’এমনই এক অভিজ্ঞতা, যেখানে বিস্ফোরক অ্যাকশন, জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত প্রতিশোধের গল্প এক সুতোয় গাঁথা। পরিচালক আদিত্য ধর এই ছবিকে তুলে ধরেছেন এক বিশাল ক্যানভাসে, আর সেই ক্যানভাসে প্রাণ সঞ্চার করেছেন রণবীর সিং এবং সহ কলাকুশলীরা। এই সিনেমার ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে একাধিক স্তরের গল্প যা একই সঙ্গে মুগ্ধও করে, আবার প্রশ্নও তোলে।
বড় বাজেট, বিস্তৃত কাহিনি এবং তারকাখচিত অভিনয়ের সমন্বয়ে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার। পরিচালক আদিত্য ধর আবারও প্রমাণ করেছেন, কীভাবে বাণিজ্যিক সিনেমার কাঠামোর মধ্যেও বৃহৎ ভাবনা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ একসঙ্গে ধরা যায়। এই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি তার অ্যাকশন। বিস্ফোরণ, চেজ সিকোয়েন্স বা হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট—- প্রতিটি দৃশ্যেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চেষ্টা স্পষ্ট। বাস্তবসম্মত স্টান্ট এবং কম সিজিআই ব্যবহারের ফলে দৃশ্যগুলো আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। বড় পর্দায় এই অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে উপভোগ্য।
সিনেমা তৈরি করার জন্য সাহসী পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়। তেমন সাহস দেখিয়েছেন পরিচালক। ছবির কাহিনি শুধুমাত্র প্রতিশোধের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়কে একত্রিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৮ মুম্বই হামলা-এর মতো বাস্তব ঘটনার প্রভাব গল্পে যুক্ত হওয়ায় কাহিনির পরিসর অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে। সিনেমায় ঘটে চলা একাধিক টুইস্ট দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখে এবং শেষ পর্যন্ত চমক বজায় রাখে।
এই ছবির সবচেয়ে বড় সম্পদ নিঃসন্দেহে রণবীর সিং। তার অভিনয়ে সংযম, তীব্রতা এবং আবেগ—-সবকিছুর এক অনন্য মিশেল দেখা যায়। চরিত্রের ভেতরের যন্ত্রণা এবং প্রতিশোধস্পৃহা তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। খলনায়কের ভূমিকায় অর্জুন রামপাল যথেষ্ট শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করেছেন। অন্যদিকে সঞ্জয় দত্ত তার স্বতন্ত্র স্টাইলে চরিত্রটিকে প্রাণবন্ত করেছেন। আর মাধবন স্বল্প সময়েও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
সিনেমাটোগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এবং সম্পাদনা—- সব ক্ষেত্রেই ছবিটি প্রশংসনীয়। প্রতিটি ফ্রেমে যত্নের ছাপ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দৃশ্যের উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ সময়ের সিনেমা হওয়া সত্ত্বেও ছবির গতি বেশিরভাগ সময়েই ধরে রাখা হয়েছে, যা সম্পাদনার দক্ষতারই প্রমাণ।
ছবিটি মুক্তির পর থেকেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আল্লু অর্জুন এবং প্রীতি জিন্টা সহ একাধিক তারকা ছবির প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, এটি দেশপ্রেম, আবেগ এবং বিনোদনের এক শক্তিশালী সংমিশ্রণ। আবার দর্শকমহল জানিয়েছে, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’এমন একটি সিনেমা যা বড় পর্দায় দেখার জন্যই তৈরি। এর স্কেল, নির্মাণশৈলী এবং অভিনয়— সব মিলিয়ে এটি একটি সম্পূর্ণ থিয়েট্রিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স। রণবীর সিং-এর কেরিয়ারের অন্যতম শক্তিশালী পারফরম্যান্স বললেও ভুল বলা হবে না। যারা বড় ক্যানভাসের সিনেমা উপভোগ করেন তাদের জন্য এই ছবি নিঃসন্দেহে ‘মাস্ট ওয়াচ’। সব মিলিয়ে, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ শুধুমাত্র একটি অ্যাকশন সিনেমা নয়, বরং একটি বড় মাপের চলচ্চিত্র প্রয়াস। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এর স্কেল, অভিনয় এবং নির্মাণশৈলী ছবিটিকে আলাদা জায়গায় নিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *