বুধবার | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে মমতা, ‘গণতন্ত্র বাঁচাতে হস্তক্ষেপ করুন‘

 সুপ্রিম কোর্টে মমতা, ‘গণতন্ত্র বাঁচাতে হস্তক্ষেপ করুন‘

আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন একই মানদণ্ড অসমে প্রয়োগ করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে জোরালোভাবে আবেদন জানান, রাজ্যে চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে “গণতন্ত্র বাঁচাতে”। তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করা হচ্ছে এবং রাজ্যের মানুষকে ‘বুলডোজ’ করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আবেদনের গুরুত্ব স্বীকার করে জানায়, “প্রকৃত ভোটারদের নাম অবশ্যই ভোটার তালিকায় থাকতে হবে”। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ নির্বাচন কমিশন ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে নোটিস জারি করে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেয়।

আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন একই মানদণ্ড অসমে প্রয়োগ করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন উঠছে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনকে তিনি ছ’টি চিঠি লিখেছেন, কিন্তু কোনও সুবিচার পাচ্ছেন না। শুনানির শেষে তিনি আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবারও “গণতন্ত্র রক্ষার” আবেদন জানান।

মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সওয়াল করা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শ্যাম দিবান জানান, বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ দেখিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১.৩৬ কোটি মানুষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে, অথচ সংশোধনের সময়সীমা শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি—ফলে সংশোধনের সুযোগ অত্যন্ত কম।

এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র মধ্যে রয়েছে—ভোটার ও অভিভাবকের নামের বানান না মেলা, বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হওয়া ইত্যাদি। দিবানের দাবি, বহু ক্ষেত্রেই কেবল বানান ভুল, যা সহজেই সংশোধনযোগ্য। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, বাংলা উপভাষার কারণেও অনেক সময় নামের বানান ভুল হতে পারে

বেঞ্চ আরও জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধনে অভিবাসনের বিষয়ও আসে, কিন্তু কোনও নির্দোষ নাগরিক যেন বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। “প্রতিটি সমস্যারই সমাধান আছে,” মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ায় ভোটারদের আধার গ্রহণ করা হচ্ছে না, বরং অতিরিক্ত নথি চাওয়া হচ্ছে। এমনকি জীবিত মানুষকেও মৃত দেখানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিক দেয়নি; মূলত নিম্নপদস্থ কর্মী দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কমিশন যা চেয়েছে রাজ্য তা-ই দিয়েছে।

এর আগে ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, SIR প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ হয় এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে না ফেলে। সেই সঙ্গে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ তালিকাভুক্তদের নাম গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে টাঙানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, নির্বাচনমুখী পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়াকে “ইচ্ছামতো ও ত্রুটিপূর্ণ” বলে আগেই সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বর্তমান পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া চললে গণভোটাধিকার হরণের আশঙ্কা তৈরি হবে এবং তা গণতন্ত্রের ভিত্তিতে আঘাত করবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *