শনিবার | ০৭ নভেম্বর ২০২৬

সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোনে নজরদারি

 সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোনে নজরদারি

দর্শনার্থী ছাড়াই ‘ফুলপ্রুফ’ নৈহাটি বড়মার পুজো

সন্দীপ বসু- কলকাতার চোরবাগান বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বেনজির নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে নৈহাটির বিখ্যাত বড়মার পুজোকে। পুজো শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই তাই এবার তৎপর প্রশাসন।
পুজো সুষ্ঠুভাবে এবং নিরাপদে পরিচালনা করতে কয়েকদিন আগেই পুরসভা, মন্দির কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সব দফতরের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং। তিনি জানিয়েছেন, শুধু পুজো চলাকালীন নয়, প্রতিমা নিরঞ্জনের সময়েও বেশ কিছু বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হবে। থাকবে প্রচুর সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার, নিরন্তর নজরদারি চলবে ড্রোন ক্যামেরা দিয়েও। বিপদের আঁচ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার জন্য কোনওরকম ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন।
এ ছাড়া, নৈহাটির রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার, জিআরপি এবং আরপিএফ অফিসারদের সঙ্গেও কথা হয়েছে পুলিশ কমিশনারেটের কর্তাব্যক্তিদের। পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য, শিয়ালদহ, হাওড়া, কল্যাণী হোক বা মালদা—কোন দিক থেকে কত যাত্রীর ভিড় আসবে বড়মার পুজো দেখতে এবং কোন কোন বাসস্ট্যান্ড থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করবেন, সেসবের আগেই তথ্য নিয়ে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলও চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বড়মার পুজোয় আসা লাখ লাখ ভক্তের ভিড় সামাল দিতে ৬ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ভক্তদের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে বড়মার মন্দিরের দরজা। নৈহাটির বড়মা মন্দিরে সারা বছরই বিপুল সংখ্যক ভক্ত মায়ের পুজো দিতে আসেন। কিন্তু দীপান্বিতা অমাবস্যায় ভক্তদের সংখ্যা লাখের কোটা ছাপিয়ে যায়। গত ১০৩ বছর ধরে নৈহাটির অরবিন্দ রোডে বিশালাকার বড়মার মূর্তি পূজিত হয়ে আসছে। তিন বছর আগে সেখানেই বড়মার মন্দির এবং তাঁর কষ্টিপাথরের স্থায়ী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তারপর থেকে এই মন্দিরে বড়মার নিত্যপুজো হয়ে থাকে। প্রাচীন রীতি মেনে দীপান্বিতা অমাবস্যায় প্রতি বছর অরবিন্দ রোডের উপরে বড়মার বিশাল মূর্তি তুলে আলাদা পুজোও করা হয়। পুজো উপলক্ষে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভিনরাজ্য এবং বিদেশ থেকেও মায়ের দর্শন পেতে মানুষ এখানে আসেন।
প্রাচীনকাল থেকেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অন্তর্গত নৈহাটি কালীপুজোর জন্য বিখ্যাত। তার সঙ্গে বড়মার মাহাত্ম্য এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এখন কালীপুজোর সময় নৈহাটিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক লাখ বেড়ে গিয়েছে। এই সময় লাখ লাখ ভক্ত গঙ্গাস্নান করে দণ্ডি কেটে মায়ের মূর্তি পর্যন্ত পৌঁছান। তার সঙ্গে যোগ হয় সাধারণ মানুষের ভিড়।
এই দু’য়ে মিলে অপ্রশস্ত রাস্তায় কালো মাথা ছাড়া আর কিছু নজরে আসে না। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণে কালীপুজোর সময় বড়মার মন্দির দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, একইসঙ্গে মন্দির ও মায়ের মৃন্ময়ী রূপ দর্শন এবং দণ্ডি কাটার ভিড় সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছে প্রশাসন ও মন্দির কমিটি। শুধু বড়মার পুজো নয়, দীপান্বিতা অমাবস্যায় নৈহাটির অরবিন্দ রোডে একাধিক বড় কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়। এসব পুজো যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এখন থেকেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *