বুধবার | ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জোড়া এনকাউন্টার রাজ্যে, গাইঘাটার পরে সমশেরগঞ্জেও এনকাউন্টারে মৃত্যু অভিযুক্তের

 জোড়া এনকাউন্টার রাজ্যে, গাইঘাটার পরে সমশেরগঞ্জেও এনকাউন্টারে মৃত্যু অভিযুক্তের

কলকাতা, ২৭ অক্টোবর- একদিনো জোড়া এনকাউন্টার রাজ্যে। একদিকে গাইঘাটায় কিশোরী ধর্ষণ খুনে অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্তের, আরেকদিকে সমশেরগঞ্জে বিজেপি কর্মীকে খুনের ঘটনায় আটক অভিযুক্তেরও মৃত্যু হলো এনকাউন্টারে। পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সোমবার রাত ১২টার কিছু আগে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য যাওয়া হয়।

অন্যদিকে, সমশেরগঞ্জের ঘটনায় সিআইডি-কে তদন্তে বাধা দিয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাকে এনকাউন্টার করা হয় বলে খবর। মৃতের নাম শামাউন শেখ। ফরাক্কার ঘোড়াইপাড়ায় তার বাড়ি। মাস দুই আগে ধুলিয়ানের বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডলকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে কারাবাসে ছিল শামাউন।মঙ্গলবার সিআইডির গুলিতে মৃত্যু হল তার। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে সামশেরগঞ্জে বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডলকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। তাঁর দেহ মেলেনি। পায়ের একাংশ পাওয়া গিয়েছিল গঙ্গার ধারে। সেই ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জেলার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বস্তরে পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করা হয়। তদন্তে নেমেই পুলিশ শামাউন শেখ-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার যায় সিআইডি-র হাতে। জেলবন্দি ছিল শামাউন ও বাকি দু’জন। মঙ্গলবার সিআইডি আধিকারিকরা তদন্তের জন্য তাকে ধুলিয়ান বাজারের কাছে ডাকবাংলো মোড়ে নিয়ে যেতেই ঘটে যায় এই ঘটনা।

সিআইডি সূত্রে খবর, ধুলিয়ান বাজারে শামাউন তদন্তকারীদের বাধা দিয়ে তাদেরই সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। সেসময় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান আধিকারিকরা। গুরুতর জখম হয় শামাউন। তাকে স্থানীয় অনুপনগর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে মৃতদেহ। এ নিয়ে গত তিনমাসে রাজ্যে ধর্ষণ, খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি দিতে তিনবার এনকাউন্টার হল। প্রতি ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা পুলিশ ও তদন্তকারীদের উপর আক্রমণ করায় এভাবে খতম করা হল বলে দাবি। যদিও এধরনের অপরাধ দমনে ‘সকালে জমা বিকেলে খরচ’ নীতির কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গাইঘাটার ঘটনায় পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে ঘটনার আকস্মিকতায় প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। সে সময় এক পুলিশকর্মী জখম হন। এক জন রাস্তার ধারের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। তার পরে আত্মরক্ষার জন্য চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশও। তার মধ্যে একটি গুলি লাগে অভিযুক্তের গায়ে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সোমবার রাতের ওই ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে পুলিশি ‘এনকাউন্টারের’ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্তোষপ্রকাশ করছেন গাইঘাটার এলাকাবাসীদের একাংশ। খুশি নিহত কিশোরীর পরিবারও। কিশোরীর বাবা বলছেন, “আমার মেয়েকে তো আর ফেরত পাব না। সরকারের নির্দেশে পুলিশ ভাল করেছে। অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে গুলি চালিয়েছিল। পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *