বর্ধমানের পৈতৃক বাড়ির পুজোতেই আনন্দ খুঁজে পান অভিনেত্রী
অন্বেষা হাজরা (অভিনেত্রী)
সোনি আট-এ সম্প্রচারিত ‘রাধুনি না কাঁদুনি’-র শুটিং শেষ। তাই আপাতত কাজের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি। অন্য সময়ে পুজোর আগে শুটিংয়ের ফাঁকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরতে হলেও এবার সেই তাড়া নেই। তাই পুজোর বেশ কিছু দিন আগেই চলে এসেছেন বর্ধমানের মেমারির বাড়িতে। তবে তার পুজোর আসল টান মেমারির বাড়িতে নয়, বর্ধমানের ধান্যখেরুতে তাদের পৈতৃক বাড়ির দুর্গাপুজোকে ঘিরে। আনুমানিক ৬০০-৭০০ বছরের পুরোনো সেই বাড়িতে পুজোর ঐতিহ্য আজও অমলিন। অভিনেত্রীর কথায়, বাড়ির পুজোর মাধুর্যই আলাদা। যে ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন সারা বছর দূরে থাকেন, তারাও এই সময় একসঙ্গে হন। বাড়ি ভরে ওঠে গল্প, আড্ডা আর খাওয়াদাওয়ায়।
পুজোর রীতি মেনেই চলে ভোগ ও খাওয়াদাওয়া। অভিনেত্রীর বাড়ির দুর্গাপুজোর বেশ কিছু নিজস্ব রীতি রয়েছে। মায়ের কাছে ছাঁচি কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। দেবীর জন্য থাকে লুচি ভোগ। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত, শুধুমাত্র অষ্টমীর দিনটি বাদ দিয়ে প্রতিদিনই মাছ খাওয়ার রীতি রয়েছে। পুজোর রান্নার দায়িত্ব সামলাতে আসেন ঠাকুরমশাই। পাশাপাশি বসে তৈরি হয় নানা রকম মিষ্টি। এক চালের প্রতিমায় পুজো হয় তাদের বাড়িতে। পুজোর ক’টা দিন গ্রামের মানুষজনও এই বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করেন। দুর্গাপুজোর পরে সেই মণ্ডপেই হয় লক্ষ্মীপুজো।
এই পুজোকে ঘিরে একটি আশ্চর্য কাহিনিও প্রচলিত রয়েছে, যা ছোটবেলায় শুনেছেন অভিনেত্রী। তার দাদুর এক পিসি তখন মাত্র পাঁচ বছরের। একদিন ঘুম থেকে উঠে সে নিজের বাবাকে জানায়, তাদের বাড়িতে দুর্গাপুজো হবে। শুধু তা-ই নয়, পুজোর আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়মকানুন সম্পর্কেও সে বিস্তারিত বলে দেয়। ঘটনাটি আজও অভিনেত্রী অন্বেষাকে অবাক করে। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমার এখন ৩০ বছর বয়স। বছরের পর বছর বাড়ির পুজো দেখে এসেও আমি পুজোর সমস্ত নিয়মকানুন ঠিক করে বলতে পারব না। অথচ পাঁচ বছরের একটা ছোট মেয়ে কী করে সম্পূর্ণ পুজোর নিয়ম বলে দিয়েছিল, ভাবলে অবাক লাগে।’ পুজোর সময় কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া হয়নি কখনও। বাড়ির পুজোকে ঘিরেই অন্বেষার সমস্ত আনন্দ। পুজোর কেনাকাটা নিয়েও বিশেষ মাতামাতি নেই। এ বার তো আলাদা করে কোনও কেনাকাটাই করেননি। বাড়িতে যা পোশাক রয়েছে, সেগুলিই পরবেন। অভিনেত্রীর কাছে পুজো মানে তাই নতুন পোশাক বা শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো নয়। বরং পরিবারের সকলের সঙ্গে এক ছাদের তলায় কয়েকটা দিন কাটানো, পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে থাকা।
সাক্ষাৎকার- আনন্দিতা সরকার।