‘ভোটচোর’ বলা যাবে না মুখ্যসচিবকে, মুছতে হবে পোস্ট, মহুয়াকে নির্দেশ আদালতের
কলকাতা, ১৫ অক্টোবর- রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে ‘ভোটচোর’ বলে এবার বিপাকে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। তাতে বিচারপতির কড়া নির্দেশ, মনোজ আগরওয়ালকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বিতর্কিত করা মন্তব্য চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মুছতে হবে মহুয়াকে। লিখিতভাবে ক্ষমাও চাইতে হবে তাকে। আর এরপর থেকে সোশাল মিডিয়া বা অন্য কোথাও মুখ্যসচিবকে নিয়ে এমন কোনও মানহানিকর মন্তব্য যাবে না। ৫ জানুয়ারী মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
আদালত তার নির্দেশে জানিয়েছে, গত ৩ অক্টোবর এবং ৬ অক্টোবর মহুয়া মৈত্র যে সমস্ত পোস্ট করেছিলেন, অর্ডার হাতে পাওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সেগুলি তাকে মুছে ফেলতে হবে। মামলার পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছে, মহুয়ার পোস্টগুলিতে শুধুমাত্র এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করা হয়নি, বরং মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে তিনি আদালতে উপযুক্ত কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। ফলে ওই অভিযোগগুলির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়েই সন্দেহ রয়েছে। আদালতের অভিমত, এসআইআর বা সরকারি নীতি নিয়ে জনস্বার্থের পরিসরে যে কোনও আলোচনা বা সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, তবে সেই সমালোচনার আড়ালে ব্যক্তিগতভাবে কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করা যায় না।
রাজ্যের মুখ্যসচিবের অভিযোগ, মহুয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ‘ভোটচোর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। মহুয়ার বক্তব্য ছিল, লক্ষ লক্ষ বৈধ বাঙালি ভোটারের ভোটাধিকার বেআইনিভাবে কেড়ে নেওয়ার জন্য মনোজই দায়ী। ওই পোস্টে মহুয়া বলেন, ‘‘দেশ এ বার আপনাকে ধাওয়া করবে। ছাড় পাবেন না।’’ মনোজের আইনজীবীর বক্তব্য, প্রাক্তন সিইও কোনও ভোট চুরি, কারচুপি বা বেআইনি কাজ করেননি। তার কাজ ছিল আইন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে সরকারি দায়িত্ব পালন করা।