ক্যামাক স্ট্রিট কান্ডে পাঁচ ঘণ্টা জেরার পরে বাইরে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের
কলকাতা, ১৪ অক্টোবর- ক্যামাক স্ট্রিট কান্ডে বুধবার শেক্সপিয়র থানায় হাজিরা দিলেন মমতা তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পাঁচ ঘন্টা ধরে জেরার পরে বাইরে বেরিয়ে এসে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য কটাক্ষ করলেন বিজেপিকে।
হাজিরা প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, প্রত্যেকটা তদন্তে, যে কোনও মামলায় তিনি যতটা পেরেছেন সহযোগিতা করেছেন। কোনওদিন কোনও প্রশ্ন এড়িয়ে যাননি। এই প্রসঙ্গেই নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে অভিষেকের কটাক্ষ, ”সারদা, নারদা চোরটা একবার সিবিআইয়ের নোটিস পেয়েই বিজেপিতে ছুটে পালিয়ে গেছে।” স্পষ্টভাবে অভিষেক দাবি করেন, রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে বাংলা দখল করা হয়েছে তাই এই সরকার অবৈধ, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা সবই অবৈধ। একই রকমভাবে প্রধানমন্ত্রী—কেন্দ্রের সরকারও অবৈধ।
বিলবোর্ড ইস্যুতে পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু অধিকারী সরকারকে তোপ দাগেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, ”শুধুমাত্র অভিযোগ করলে হবে না। নোটিস না দিয়ে কোনও ডিমোলিশন হয় না, এটা কেএমসি-র নিজের আইনে রয়েছে। আর পুরসভা আমাকে নোটিস দেয়নি।” এক্ষেত্রে তার এও প্রশ্ন, সেদিন সারা ক্যামাক স্ট্রিটে পুরসভার অভিযান হয়েছিল, কটা বিলবোর্ড খোলা হয়েছে? বিজেপি সরকার ভয় পাচ্ছে এই দাবি করে অভিষেক বলেন, ”খালি তৃণমূল কংগ্রেসের বিলবোর্ড খোলা হবে? তৃণমূল কংগ্রেসের যদি কিছু না থাকে, তাহলে এত ভয়, কেন পাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী? ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে তৃণমূলের সিম্বল ফ্রিজ, পার্টি অফিস ভাঙা, বিলবোর্ড খোলা, দলের নেতাকর্মীদের জেলে ঢোকানোর পরও এদের রাতে ঘুম আসছে না কেন?’ প্রশ্নের উত্তরও কার্যত নিজেই দিয়ে দেন অভিষেক। স্পষ্ট কথা, বিজেপি জানে যে চুরি করে জিতেছে, মানুষের ভোটে যদি কেউ ক্ষমতায় আসে, সে এত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকবে না। জ্ঞানেশ কুমার প্রসঙ্গ এবং দেশজোড়া আন্দোলন প্রসঙ্গে অভিষেকের টিপ্পনী, জ্ঞানেশ বিজেপির প্রাণভোমরা। ওঁকে না বাঁচালে সীমা খান্না, মনোজ আগরওয়াল থেকে সুব্রত গুপ্ত – সবাই একে একে ডুববেন।