উপনির্বাচনে দুই কেন্দ্রে জয় বিজেপির, নন্দীগ্রামে রেকর্ড ভোট জিতলেন পদ্ম প্রার্থী
কলকাতা, ৯ অক্টোবর- বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এবার উপনির্বাচনেও বাজিমাত বিজেপির। আগের নির্বাচনে জয় পাওয়া নন্দীগ্রাম তো বটেই, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের রেজিনগরেও জয় পেল গেরুয়া শিবির। আর এই বিপুল জয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, ‘দুই কেন্দ্রেই রাষ্ট্রবাদী শক্তি জিততে চলেছে। সব রেকর্ড ভেঙে বিপুল সংখ্যক ভোটে জিততে চলেছেন বিজেপির প্রার্থীরা।’
গণনার শুরু থেকেই দুই কেন্দ্রে এগিয়ে ছিলেন পদ্ম প্রার্থীরা। একের পর এক রাউন্ডে ঝড়ের গতিতে এগোতে থাকে বিজেপি। ১৫ রাউন্ড গণনার শেষে নন্দীগ্রামে ১,২২৭৫৩ ভোটে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। আর ১৫ রাউন্ড শেষে রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার জয়ী হয়েছে ৭৫ হাজার ৮১৬ ভোটে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে নতুন দল গড়ে এই রেজিনগরেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। আর সেই কেন্দ্রেই তার পুত্র দাগই কাটতে পারলেন না।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেবার তার জয়ের মার্জিন ছিল ১ হাজার ৯৫৬। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে জয়ী হন। তার প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি সেই মার্জিনও টপকে রেকর্ড ভোটে জয়ী হলেন। নন্দীগ্রাম-রেজিনগরের জয় নিয়ে প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দুই কেন্দ্রের কোথাও তৃণমূল এবং বামেরা দাগ কাটতে পারবে না বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন জয়ের পরেও নবান্নে তার মন্তব্য, রাষ্ট্রবাদী শক্তি জয়ী হয়েছে। এবার নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছে মমতা তৃণমূল। ভোটের মুখে পুরনো এক মামলায় গ্রেফতার হন কংগ্রেস প্রার্থী। পরে তিনি জামিন পান। ভোটের মুখে প্রার্থী গ্রেফতার হওয়ার ফলে জনগণের সমবেদনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন কি কংগ্রেসের জন্য ‘অক্সিজেন’ হিসেবে কাজ করল? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই কংগ্রেসকে খোঁচা দেন শুভেন্দু। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “না না, ও সব কিছু নয়। কংগ্রেস একটা মরা দল। রাহুল গান্ধীকে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেও ওদের কিছু হবে না।”
রেজিনগরে জয়ের পরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, ‘মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।’ তবে বাংলার জোড়া বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলকে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে উড়িয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, “এটা কোনও ভোট হয়েছে যে, ফল নিয়ে বলব। এরা ঠিক মতো ছাপ্পাও মারতে পারে না!” রেজিনগরের একটি বুথের ফল নিয়ে শুক্রবার দুপুরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে তিনি একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে দাবি করেছিলেন, ওই বুথে মোট ভোটার যা, তার চেয়ে বেশি ভোট বিজেপি পেয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই দিল্লিতে মমতা বলেন, “৭৭২ জন ভোটার আর ভোট পড়েছে ৯০৯। তার মানে পুলিশকে দিয়ে ছাপ্পা করালে এরকমই হয়।” যদিও কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিয়েছে এই তথ্য একেবারে অসত্য, ভিত্তিহীন।