রক্তাক্ত ককপিট উদ্ধার ২ জখম পাইলট আতঙ্কিত যাত্রীরা
তেল আভিভ, ৩০ সেপ্টেম্বর : ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে রক্তারক্তি কাণ্ডে আতঙ্ক ছড়াল যাত্রীদের মধ্যে। ‘দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক পাইলট আর পাইলটকে ছুরি দিয়ে কোপান। ককপিটের ভিতরে যখন দুই পাইলটের মারামারি চলছিল, সেই চিৎকার যাত্রীদের কানে পৌঁছোতেই তাদের মধ্যে এক জন ককপিট খুলতেই দেখেন, এক পাইলট নিচে পড়ে রয়েছেন। রক্তে ভেসে যাচ্ছে।
দুই পাইলট ওমানের নাগরিক বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। দু’জনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদন বলছে, যাত্রীদের মধ্যে কয়েক জন পাইলট ছিলেন। তারাই বিমানটিকে সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। ওই পাইলটেরা যদি ককপিটের দখল না নিতেন, তা হলে ২০০১ সালের আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার মতো ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন ইজরায়েলের এক শীর্ষ আধিকারিক।
এই ঘটনার মধ্যে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে বিমানযাত্রীরা হাততালি দিচ্ছেন, গান গাইছেন। দাবি করা হচ্ছে, ফ্লাই দুবাইয়ের ওই বিমান তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করার পর যাত্রীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। যাত্রীদের মধ্যে যে অন্য পাইলট ছিলেন তিনি ককপিটে গিয়ে ঝামেলা প্রতিহত করা চেষ্টা করেন। দু’জন স্থায়ী পাইলটকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই ঝামেলার মধ্যেই বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে হু-হু করে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। দু’মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে। বেশ কয়েকটি সূত্রে আবার দাবি করা হয়েছে, হামলাকারী পাইলট আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টাও করেন। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় যখন রক্তারক্তি কাণ্ড চলছে বিমানের ককপিটে, তার মধ্যেই বিমান অপহরণের বার্তা পৌঁছোয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে। সূত্রের খবর, প্রথমে স্কোয়াক কোড ৭৭০০ পাঠানো হয়। তার পর পরই আবার স্কোয়াক কোড ৭৫০০ পাঠানো হয় এটিসি-কে। প্রথম বার্তায় আতঙ্ক ছড়ায় বিমানটি ‘হাইজ্যাক’ হয়ে গিয়েছিল। পরের বার্তায় বোঝা যায়; বিমানটির দ্রুত নিরাপদ অবতরণের প্রয়োজন হয়েছে। সেই বার্তা আসার পরেই বিমানটিকে দ্রুত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করা হয়।