বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহ গ্রামে গিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর
ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর- শিক্ষা থেকে সংস্কৃতি সবক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করছে রাজ্য সরকার, বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বীরসিংহে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেতে গিয়ে এমনই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি গ্রন্থাগারগুলিকেও নতুন করে সাজিয়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি। এই ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আদানির পরে এবার বাংলায় শিল্পে বিনিয়োগ করতে চলেছে রিলায়েন্স গ্রুপ।
বুধবার ঘাটালের বীরসিংহে গিয়ে একাধিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদ্যাসাগর মহোদয়ের এই পুণ্যভূমিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার এসেছি। এ আমার কাছে পরম আনন্দ এবং গর্বের। সরকারের পক্ষ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ওঁর জন্মদিন পালিত হয়। কিন্তু গ্রামবাসীরা বাংলা সন-তারিখ ধরে পালন করেন।’ বাল্যবিবাহ রুখে দেওয়ার জন্য নূপুর চঙরে, শ্রেয়া অধিকারী এবং তনুশ্রী সামন্ত নামে তিন ছাত্রীকে সংবর্ধনা দেন শুভেন্দু। তাদের সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তিন জন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিজেদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবাহ দেওয়ার প্রচেষ্টা নিজেরাই রুখে দিয়ে বিদ্যাসাগরের দেখানো পথে আমাদের সামনে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। মাত্র দু’দিনের নোটিসে আমার ইচ্ছা এবং স্বপ্নপূরণ করেছে।’
বুধবার বীরসিংহের উন্নতিকল্পে রাজ্য সরকার বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার কথায়, ‘এই ভিটাকে আদর্শ গন্তব্য হিসাবে গড়তে চাই। কথায় নয়, কাজে হবে। রাস্তা চওড়া, রাতে থাকার ব্যবস্থা, মিউজিয়াম তৈরি, লাইব্রেরি তৈরি, আলোর ব্যবস্থা… ভারতবর্ষের মানুষের কাছে যাতে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।’ জানিয়েছেন, বিদ্যাসাগর শিশু উদ্যান তৈরি করা হবে, নতুন রাস্তা হবে। তা ছাড়া কমিউনিটি হল তৈরি হবে। রাত্রিবাসের জন্য আবাসিক হস্টেল তৈরি করার জন্য পর্যটন দফতরকে ব্যবস্থা করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে গবেষণা করতে চান, তাদের থাকার জন্য বিশেষ কটেজ করার জন্য ডিএম-কে জমি দেওয়ার জন্য বলেছি।’ বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তার অসীম সম্পদ তিনি দিয়ে গিয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে চলবে এই সরকার। অংসখ্য বই রয়েছে, আর ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ বই কিনবেন না। বিদ্যাসাগরের বই কিনুন, স্কুলের লাইব্রেরিগুলো ভরিয়ে দিন। আগে শুধু ভাষণ হয়েছে, কাজ কিছু হয়নি।’ শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুজোর পর থেকে কাজ শুরু হবে এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে অনেকটা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।