দুর্গাপুজোয় ছুটি বাড়াল বাংলাদেশ সরকার, বাড়ল অনুদানের অঙ্ক
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর : এবছর দুর্গাপুজোয় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে দিল বাংলাদেশ সরকার। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর নবমী উপলক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে থাকবে সাধারণ ছুটি। পরদিন, অর্থাৎ ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই দিনও (২২ অক্টোবর) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এর পরে ২৩ এবং ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
সাধারণভাবে সরকারি ছুটির দিনে ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শাখা বা বিশেষ পরিষেবা চালু থাকতে পারে। এটিএম, কার্ড এবং অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মতো ডিজিটাল পরিষেবাও সাধারণত চালু থাকে। তবে হাসপাতাল, পুলিশ, দমকল (ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জল সরবরাহের মতো জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্গাপুজোর অনুদানের ক্ষেত্রেও ‘চাহিদার চেয়েও বেশি বরাদ্দ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেকের সরকার।
বাংলাদেশের ওই পত্রিকার প্রতিবেদনের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একই ভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দু’কোটি টাকা চেয়েছিল। তারেকের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার তিন কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রয়াসকে ‘একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত’ বলে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেকের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজনকান্তি সরকার। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এক দিন ছুটি বাড়িয়েছেন, কিন্তু আমরা ছুটি পাচ্ছি পাঁচ দিন। এতে উৎসবটা পরিপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক হবে। আর প্রস্তাবের বেশি অনুদান দেওয়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। এটি খুবই ইতিবাচক।’