রাজ্যের মৎস্যশিল্পে ৯ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা কেন্দ্রের
কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বর- বাংলায় এসে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং। সোমবার নিউটাউনে একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলার মৎস্যশিল্প বিকাশের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ৯ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গেই সেখানে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিউটাউনের ওই অনুষ্ঠান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘোষণা করেন, আজ থেকে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হল রাজ্য। এতদিন তৃণমূল সরকারের আমলে সেই সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে রাজ্যের মৎস্যজীবীরা তা পাননি বলে অভিযোগ শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। আর সেই সুরেই সুর মেলান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নিউটাউনের ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ও মৎস্যদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাতো। প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরে প্রায় দেড়ঘণ্টার বৈঠকে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ‘রাজ্যের মৎস্যশিল্পে প্রচুর সম্ভাবনা। আমরা সেটা নিয়ে বারবার আলোচনা করেছি। কিন্তু আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব। তিনি আমাদের সব কথা শুনে পশ্চিমবাংলার মৎস্য শিল্পে বিকাশের জন্য ৯ কোটি টাকা আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আজ থেকে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার আওতায় আনা হল আমাদের রাজ্যকে। এতে মৎস্যজীবীরা অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজনমতো ঋণও পাবেন। আগেই কাজটা করা যেত। কিন্তু বিগত সরকার শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য সেটা করেনি। আমাদের সরকারের ৪ মাসে যতটা পেরেছি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা দিয়েছি রাজ্যবাসীকে।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংও নতুন রাজ্য সরকারের প্রশংসা করতে গিয়ে বিগত সরকারের সমালোচনা করেন। তার কথায়, ‘বিগত বছরগুলিতে আমরা এখানে সুবিধা দিতে চেয়েও পারিনি। কারণ, রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা সাহায্য করেননি। যে কাজ ৫ বছর ধরে আটকে ছিল, চারমাসেই তা হয়ে গেল।’