শনিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েও অবস্থান থেকে সরলেন রবিউল, নাটকীয় পরিস্থিতি রেজিনগরে

 মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েও অবস্থান থেকে সরলেন রবিউল, নাটকীয় পরিস্থিতি রেজিনগরে

কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর- বঙ্গে উপনির্বাচনে একের পর এক নাটকীয় মোড়। সকালেই রেজিনগর উপনির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। সেই সিদ্ধান্ত জানানোর দেড় ঘণ্টা পরেই ইউ-টার্ন, নিজের অবস্থান থেকে সরে এলেন তিনি। জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে, তিনি ভোটে লড়ছেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কালীঘাট তৃণমূলকে ফুটবলার চিহ্ন দিয়েছে। আর সেই চিহ্ন নিয়েই ভোটে লড়াইয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রবিউল বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো লড়াই করব। নতুন প্রতীক নিয়ে লড়াই হবে। আমরা আগেও অনেক নির্বাচন করেছি। অল্পকর্মী নিয়ে হলেও লড়ব। কর্মীরা সামলে নেবে।’

            নন্দীগ্রামে ইতিমধ্যে মমতার প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সেখানে মমতার দল কংগ্রেসকে সমর্থন করবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে আজ আদালতে তোলা হলে আদালত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত তার পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ২০০৭ সালের একটি খুনের ঘটনায় মিলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আখ্যা দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল এবং কংগ্রেস।

            শুক্রবার থেকেই জল্পনা ছিল রবিউলও মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। তা সত্যি করে শনিবার সকালে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান। ঘণ্টা খানেক আগে তিনি বলেছিলেন, “কর্মীরদের উপর চাপ আছে। ওরা থাকছে না। ভোট করাব কী করে। প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” ঘড়ির কাটা কিছুটা ঘুরতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে অবস্থান পরিবর্তন করলেন রবিউল। জানিয়েছেন লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছেন না তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁর নির্দেশ মেনে তিনি ভোটযুদ্ধে থাকছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহর করবেন না। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কেন? রবিউল বলেন, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমি লড়াই করব।” কর্মীরা থাকছেন না, ভোট হবে কী করে? তার কথায়, “যতজন থাকবে, তাঁদের নিয়েই হবে। আমরা আগেও ভোট করিয়েছি।” কিন্তু নতুন প্রতীকের সেই সমস্যা? মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জানিয়েছেন, “নেত্রীর নির্দেশে লড়াই হবে।”

            প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করেছে। মমতাপন্থীরা ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম পেয়েছে। তাদের প্রতীক ‘ফুটবলার’। এই প্রতীকেই লড়াই হবে।     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *