বুধবার | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেবা সঙ্কল্প অভিযানের সূচনায় বাংলায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

 সেবা সঙ্কল্প অভিযানের সূচনায় বাংলায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর- বাংলায় সেবা সঙ্কল্প অভিযান নিয়ে বৈঠক করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। বাংলায় আজই এই কর্মসূচির সূচনা হলো। আর সেই কর্মসূচিতে এসে শুভেন্দুকে কার্যত পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী। দাবি করলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর কাজ নিয়ে চর্চা চলছে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মাত্র ৪ মাসে শুভেন্দু যে সব কাজ করেছেন তার প্রশংসা করেন রাজনাথ।

            কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলা এগিয়ে যাবে। তার নেতৃত্বেই বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ক’দিনে তার কাজের চর্চা দেশের অন্যান্য রাজ্যেও হচ্ছে। তার মন্তব্য, ‘ভারতকে বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে শুভেন্দুর নেতৃত্বে বাংলা অংশগ্রহণ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আশা করি, আগামীদিনে শিপ বিল্ডিং হাব হিসেবে পৃথিবীর মধ্যে প্রথম স্থানে উঠে আসবে বাংলা।’  এবার স্বাধীনতা দিবসে প্রথমবার লালকেল্লায় বন্দে মাতরমের সব কটি স্তবক গাওয়া হয়েছে। এটি বাংলার সম্মান বলে মনে করেন রাজনাথ। মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক কার্যকালকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির জীবনের গত ২৫ বছরকে যদি একটি মাত্র শব্দে সংক্ষেপ করা হয়, সেই শব্দটি হবে ‘সেবা’।’

            কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এই উপলক্ষ্যে বিজেপি এবং এনডিএ-র সহযোগী দলগুলি ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ‘সেবা সে সংকল্প অভিযান’ পরিচালনা করবে। দেশজুড়ে এই অভিযানের আওতায় ১২টি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে সেবা, সামাজিক কল্যাণ এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার নেওয়া বিভিন্ন রূপান্তরমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের আগে ভারতকে প্রায়শই এমন একটি অর্থনীতি হিসেবে বর্ণনা করা হতো, যা ছিল “অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত” এবং “অপর্যাপ্তভাবে পরিচালিত”। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারত ‘সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রিত’ এবং ‘সঠিকভাবে পরিচালিত’, এবং ভারতীয় অর্থনীতি ৭.৮% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, “গত ১২ বছরে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন, আর ৯৪ কোটিরও বেশি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় এসেছেন।”

            তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালের তুলনায় “প্রতিরক্ষা উৎপাদন চারগুণ বেড়ে প্রায় ₹১.৮০ লক্ষ কোটি হয়েছে”, আর “প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।” তিনি আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী সেবার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন এবং তৃণমূল স্তরে অবদান রাখা মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন। তিনি ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করে বলেন, এর মাধ্যমে অপরিচিত ও নেপথ্যে থাকা নায়কদের অবদান জাতীয় স্তরে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পদ্ম পুরস্কার’ সাধারণ মানুষের অসাধারণ কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শেষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘সেবা সে সংকল্প অভিযান’ শুধুমাত্র সাফল্য বা পরিসংখ্যান উদযাপনের কর্মসূচি নয়; বরং এটি দেশ গঠনে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে অনুপ্রেরণা জোগানোর একটি উদ্যোগ। তার কথায়, “এটি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির কাহিনি নয়। এটি এক নতুন ভারতের কাহিনি।”   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *