পাহাড়ে গিয়ে জিটিএর দুর্নীতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর– গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-র দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে পালাবদলের পরেই গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর (জিটিএ) চিফ এগ্জিকিউটিভের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অনীত থাপা। তার পরেই পাহাড়ের এই স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। তা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝেই প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার৷ আইএএস স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে জিটিএ প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হল৷ আর পাহাড়ে জিটিএ-র দুর্নীতির তদন্তে এবার কমিটিও গঠন করল রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝে জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সভাপতিত্বে তদন্ত হবে। আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রমন তাঁর কার্যকরী সদস্য হিসেবে তদন্ত করবেন৷ দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ে প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ-সহ দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠছে। জিটিএ-র অধীনে বেআইনি ভাবে ৪০০-র বেশি শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পানীয় জল সরবরাহের জন্য বরাদ্দ কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘আম্রুত’ প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার এবং পাহাড়ে বিভিন্ন জনজাতির সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য গঠিত লেপচা এবং তামাং পর্ষদ-সহ ১১টি পৃথক উন্নয়ন পর্ষদের তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার উত্তরকন্যা থেকে কালিম্পঙের প্রশাসনিক বৈঠকে জিটিএ-র আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জিটিএ-তে যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, তার কোনওটাই আমরা ছাড়ব না। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তের জন্য কমিটি গঠিত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সভাপতিত্বে এবং আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রমন তার কার্যকরী সদস্য হিসেবে কাজ করছেন— তারা দু’জনে ইতিমধ্যেই পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে পরিদর্শনের কাজ শেষ করেছেন।’ পাহাড়ের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে কালিম্পং অঞ্চলের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কালিম্পঙের জনগণকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে আপনাদের পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার অমৃত প্রকল্প, যত দুর্নীতি এরা করেছে এবং আমাদের লেপচা বোর্ড ও তামাং বোর্ড-সহ যে ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের টাকা এরা লুট করেছে, তার একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না। আপনারা দেখে নেবেন!’ আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, ‘তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই এফআইআর দায়ের করা হবে, (দোষীদের) গ্রেফতার করা হবে এবং তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ও করা হবে।’ তিনি এ-ও বলেন, ‘জনগণের যত টাকা এবং সরকারের তহবিলের যত সম্পদ এরা লুট করেছে, তা উসুল বা ফেরত নেওয়ার কাজ সরকার করবে— এই আশ্বাসও আমি দিচ্ছি।’