সোমবার | ৩১ আগস্ট ২০২৬

ফলতার থেকে বেশি ভোটে জেতাতে হবে, নন্দীগ্রামে আহ্বান শুভেন্দুর

 ফলতার থেকে বেশি ভোটে জেতাতে হবে, নন্দীগ্রামে আহ্বান শুভেন্দুর

কলকাতা, ৩১ আগস্ট- ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ধরাশায়ী হওয়ার পরে ফলতার উপনির্বাচনেও ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধাসভায় পদ্ম ফুটেছে। এবার নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনেও ফলতার চেয়ে বেশি ভোটে বিজেপিকে জেতানোর আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

            সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করে তিনি জানালেন, উন্নয়নে অগ্রাধিকার পাবে পূর্ব মেদিনীপুরের ওই বিধানসভা। শুভেন্দুর কথায়, ‘নন্দীগ্রাম ভাল থাকলে আমি ভাল থাকব।’ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রামেই তৃণমূলের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। বিজেপি সেবার সামগ্রিকভাবে ভাল ফল না করলেও মমতার এই হার ছিল তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৯ হাজারের বেশি। তবে ২০১৬ সালে ওই নন্দীগ্রাম থেকেই তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে ৮১ হাজারের বেশি ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে সেই ফলের কথা টেনে আনলেন এ বার ভবানীপুরে তৃণমূলনেত্রী মমতাকে হারানো শুভেন্দু। মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে তিনি বললেন, ‘একবার ৮২ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন। মনে আছে তো? ফলতার উপরে যাবেন তো? দু’হাত তুলে কথা দিন। রাজ্যের উন্নয়ন তো করবেই। অগ্রাধিকারে এক নম্বরে থাকবে নন্দীগ্রাম।’

            নন্দীগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ানোর সময়েই শুভেন্দু বলেছিলেন, এই বিধানসভা কেন্দ্র তার কাছে অগ্রাধিকার। তৃণমূল জমানার শেষ পাঁচ বছর নন্দীগ্রাম উপেক্ষিত হয়েছিল বলেও সোমবারের সভা থেকে মন্তব্য করেন তিনি। বার বার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এ নিয়ে নিশানা করেন তিনি। এমনকি, অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে তার কাছে হারের পর রাগে-হিংসায় নন্দীগ্রামের যাবতীয় উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু উদাহরণ টানেন রেল প্রকল্পের। নন্দীগ্রামে রেলস্টেশন করার দাবি অনেক পুরনো। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মাত্র ছয় একর জমির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকার সেটুকুও রেলকে দেয়নি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সাড়ে তিন একর জমি রেলকে হস্তান্তর করেছেন। বাকিটাও আগামী মার্চের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নন্দীগ্রাম-বটতলা রেলস্টেশনে উঠব। বাজকুলে গিয়ে নামব। প্রথম ট্রেনে আমিই চড়ব আপনাদের নিয়ে। কারও কোনও অভাব থাকবে না।’  

            মুখ্যমন্ত্রী খতিয়ান দিয়েছেন, নন্দীগ্রাম থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আরও সাত হাজার মহিলা ওই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও নজর দিয়েছেন তারা। রেয়াপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যাসংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হয়েছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *