কলকাতার রাজপথে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি, পতাকা হাতে পথে শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা, ১০ আগস্ট- প্রথমবার কেন্দ্রের হর ঘর তেরঙ্গা কর্মসূচিতে যোগ দিল পশ্চিমবঙ্গ। পালাবদলের বাংলায় কয়েকদিন আগেই এই কর্মসূচি মহা সমারোহে পালনের কতা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতার রাজপথে জাতীয় পতাকা হাতে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ যাত্রায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ হাঁটেন তিনি। শুভেন্দুর পাশে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, পুর্ণিমা চক্রবর্তীর মতো রাজ্যের একঝাঁক মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ।
মিছিল শেষে শুভেন্দু বলেন, ‘আজ কলকাতা তেরঙ্গাময়। হর ঘর তেরঙ্গা কর্মসূচিতে এই প্রথমবার রাজ্য যুক্ত হয়েছে। ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের কর্মসূচি পালন করছে রাজ্য।’ এর পাশাপাশি এদিন সরকারিভাবে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু। সোমবার কলকাতার গোষ্ঠ পাল সরণি থেকে এই মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি যায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নর্থ গেট পর্যন্ত। মিছিলের শুরুতেই জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তার ঠিক পাশেই ছিলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ, মন্ত্রী অর্জুন সিং, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মণ, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, কৌস্তভ বাগচী-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রত্যেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা।
‘প্রতিটি বাড়িতে তেরঙ্গা’ লেখা মূল ব্যানারের পেছনে নেতা-মন্ত্রীদের পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তেরঙ্গাময় হয়ে ওঠে শহরের রাজপথ। শোভাযাত্রা শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, চলতি বছর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে সরকারি স্তরে ‘রাখিবন্ধন’ উৎসব পালিত হবে। এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, রাখির ধর্মীয় মাহাত্ম্যকে শ্রদ্ধার পাশাপাশি পারস্পরিক সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করাই এর মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রের এনডিএ সরকার ৯ থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ অভিযান পালন করে থাকে। ইতিপূর্বে রাজ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় সরকারি ভাবে এই কর্মসূচি পালিত হত না। এ বার রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এই প্রথম কেন্দ্র সরকারের ওই উদ্যোগে রাজ্যকে যুক্ত করল। এই অভিযান উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে ৭০ লক্ষ তেরঙ্গা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।