রাজ্যে শুরু জনগণনা, আনুষ্ঠানিক সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর
নিউটাউনে এক অনুষ্ঠানে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা, ১ আগস্ট- আজ থেকেই বাংলায় শুরু হলো জনগণনার কাজ। শনিবার ৩৩ টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ (সেলফ এনুমারেশন) করে জনগণনার আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূচনার পরেই তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, জনগণনার জন্য রাজ্যবাসী যে তথ্য দাখিল করবেন, তা গোপন এবং সুরক্ষিত থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বসে ‘স্ব-শুমারি’ করে বলেন, ‘এ বারের জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ১০০ শতাংশ ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে। সেলফ এনুমারেশন অর্থাৎ স্ব-শুমারি হচ্ছে প্রথম বার।’
শুভেন্দু আজ জানান, ১ থেকে ১৫ অগস্ট পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনলাইনে দাখিল করা যাবে। তার আশ্বাসবার্তা, ‘রাজ্যবাসীর দেওয়া তথ্য গোপন এবং আইনগত ভাবে সুরক্ষিত থাকবে। একমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের জন্য তা ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের সুযোগ নেই। বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে জনগণনা সফল হোক।’
আবার রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন রূপায়ণে নতুন গতি আনার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সিএএ শংসাপত্র প্রদান সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ছ’ মাসের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত পেন্ডিং সিএএ আবেদন নিষ্পত্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গুজরাত বা রাজস্থানের ধাঁচে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জেলা শাসকদের হাতেও দ্রুত সিএএ নিষ্পত্তির আইনি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আগামী এক মাসের মধ্যেই এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আশ্বাস মিলেছে বলে জানান তিনি। বিগত তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার সিএএ-কে এনআরসি বলে সাধারণ মানুষকে, বিশেষত মুসলিম সমাজকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল। ‘ক্যা ক্যা ছি ছি’ থেকে শুরু করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়ে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছিল। মিথ্যা ভয় দেখানো হয়েছিল যে সিএএ-তে আবেদন করলে নাকি চাকরি যাবে, রেশন বা লক্ষ্মী ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে! অথচ আজ সত্য উন্মোচিত হয়েছে, বিরোধী দলের বিধায়করাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।’