সরকারি বিদ্যালয়ে চালু ইসকনের মিড ডে মিল, বিরোধীদের কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা, ১ আগস্ট- আজ থেকেই বাংলায় সরকারি বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পাতে পড়ল ইসকনের খাবার। শনিবার পাইলট প্রকল্পের মেগা কিচেনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইসকনে আয়োজিত যজ্ঞে সামিল হন তিনি। এরপরই সরাসরি পৌঁছে যান ইসকনের রান্নাঘরে। মিড ডে মিল রান্না করতেও দেখা যায় তাকে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ও স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনও। গোটা মেগা কিচেনের ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করে তারা।
এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতীকী হিসেবে ৫ স্কুলের ৪০ পড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। মেগা কিচেনের উদ্বোধনের পরেই মিড ডে মিল সরবরাহ করার ইলেকট্রিক গাড়িও চালু করতে ফ্ল্যাগ অফ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’ মাধ্যমে আজ থেকে স্কুলে স্কুলে পৌঁছে যাবে মিড ডে মিল। তার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ইসকনের মেগা কিচেন থেকে ইলেকট্রিক গাড়িতে রান্না করা খাবার স্কুলে পৌঁছে যাবে। মিড ডে মিলের গুণমান ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে খাবার ভরা প্রতিটি কনটেনার সিলড থাকবে। ইসকন থেকে গাড়ি স্কুলে পৌঁছনোর পর স্কুল কর্তৃপক্ষের সাক্ষর নেওয়া হবে ইসকনের তরফে। তারপরেই কনটেনারের সিল খোলা যাবে।
মিড ডে মিলে ইসকনের সংযোজন এবং ডিম না থাকা নিয়ে গত কয়েক দিনে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি সমালোচকরা আজকে একটু শান্তিতে থাকবেন, মুখটা বন্ধ রাখবেন আর মনে মনে প্রশংসা করবেন। যদি শরীরে হিংসা রিপু থাকে, তবে আজকের দিনের জন্য অন্তত সেটা সংবরণ করুন— বিরোধীদের কাছে এটুকুই আমার প্রার্থনা।’ বাম ও তৃণমূল জমানাকে এক সারিতে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বছর ধরে শুধুই রাজনীতি আর চুরি ছাড়া কিছু করেননি, তাঁদের বলব, যে ৪৪ হাজার শিক্ষার্থীকে আজ আমরা খাবার দিলাম, সোমবার পারলে আপনারাও গিয়ে একটু চেখে আসবেন। তবেই বুঝতে পারবেন, পরিবর্তনটা শুধু ঝাণ্ডার হয়নি, পরিবর্তনটা শুধু দলের, মুখের বা ব্যক্তির নাম বদলের হয়নি; আসল পরিবর্তনটা ঘটেছে ব্যবস্থার।’
ইসকন আসায় রাঁধুনিদের কাজ হারানোর যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, একজন রাঁধুনী মা, দিদি বা বোনও কর্মচ্যুত হবেন না। ইসকন তাদের রান্নাবান্না ও খাবার বিতরণের সমস্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত রাখবে। আগের সরকারের আমলে রাঁধুনীরা পেতেন মাত্র ২,০০০ টাকা ভাতা। বর্তমান সরকার চলতি অগস্ট মাস থেকেই তাদের ভাতা ১,০০০ টাকা বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করেছে বলেও মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৩ মাসে আড়াই লক্ষ শিক্ষার্থীর পাতে মিড ডে মিল পৌঁছে দেওয়া হবে। মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। বহু মানুষ ও সংস্থার সাহায্য করেছেন ইসকনকে। শুধু বিকাশ নয়, ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে অগ্রগতির জন্য ত্রুটিপূর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’