শুক্রবার | ৩১ জুলাই ২০২৬

জঙ্গি সন্দেহে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার এক যুবক, নাম-পরিচয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ

 জঙ্গি সন্দেহে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার এক যুবক, নাম-পরিচয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ

কলকাতা অফিস, ৩১ জুলাই- ফের বাংলা থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার এক যুবক। বর্ধমানের জনবহুল এলাকা থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিম মণ্ডল নামের ওই যুবক পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত। গ্রেফতারির পর শুক্রবারই হামিমকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত ধৃতের ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। বর্ধমান থেকে হামিমকে কলকাতায় এসটিএফ দফতরে নিয়ে আসা হয়েছে জেরার জন্য।

            বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের রেনেসাঁ আবাসন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হামিম মণ্ডল নামে ওই জঙ্গিকে। ধৃতের কাছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরসূচির খুঁটিনাটি বিবরণ ছিল। শুভেন্দু কোথায় যাবেন, তার গাড়ি কোথায় পার্ক করা হবে, তিনি কখন গাড়িতে উঠবেন, পরবর্তী কর্মসূচি কী আছে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথায় কোথায় যাবেন এসব তথ্য ধৃতের কাছে ছিল। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে হামলার ষড়যন্ত্র করছিল ধৃত হামিম। এর পিছনে জইশ যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দুর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন ভিআইপি জইশের স্ক্যানারে ছিল বলে জানা যায়। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শুধু আমি নই। আমাদের এমওএস উমেশ রাইও এই স্ক্যানারে ছিলেন। আগামিকাল সাংবাদিক বৈঠক করে এসটিএফ সব তথ্য জানাবে।’

            তিনি আরও বলেন, ‘এটি ভীষণ স্পর্শকাতর বিষয়। আমি বেশি কিছু বলব না। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্র জড়িয়ে। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। এসটিএফ সাংবাদিক বৈঠক করে সব জানাবে। এখনও অনেক কিছু জানা, বোঝা বাকি আছে এসটিএফের।’ এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে একটি ইনস্টাগ্রাম পেজের সঙ্গে যুক্ত হন হামিম। এই পেজটি মূলত পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং পাকিস্তানের কুখ্যাত ‘গ্যাংস্টার’ শাহজ়াদ ভাট্টি গোষ্ঠীর কয়েক জন পরিচালনা করে থাকেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃত হামিমের বাবা মনিরুদ্দিনের মূল বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাওড়ার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, সেখানেই তার ব্যবসা। ছোট থেকে হাওড়ায় অবাঙালি পাড়ায় থাকার সুবাদে হামিম এবং তার বাকি দুই ভাই-বোনের কথাতেও রয়েছে হিন্দি বা উর্দুর টান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *