শুক্রবার | ১৭ জুলাই ২০২৬

কারখানার গেটে তালা ঝোলালেই হাজতবাস, কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

 কারখানার গেটে তালা ঝোলালেই হাজতবাস, কড়া হুঁশিয়ারি  মুখ্যমন্ত্রীর

বাঁকুড়া, ১৭ জুলাই- বাংলায় এবার হাজার কোটির বিনিয়োগ হতে চলেছে, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান, শুক্রবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের ইস্পাত শিল্প কারখানার ইউনিটের শিলান্যাস করতে গিয়ে একথাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার দাবি, সবে তো শুরু। এবার ভোটের মতো বাংলায় শিল্পের কাউন্টিং শুরু হবে।

            চৌত্রিশ বছরের বাম জমানায় একের পর এক কারখানায় তালা পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বাংলা, একইসঙ্গে পেটের ভাতের জোগান দিতে ভিনরাজ্যের পাড়ি দিতে হয়েছে বহু শ্রমিককে। একইভাবে তৃণমূলের পনেরো বছরের শাসনে একের পর এক বিজনেস সামিট হলেও শিল্পে সেভাবে অগ্রগতি চোখে পড়েনি। আর সেই দুই জমানাকে একযোগে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫০ বছর ধরে রাজ্যজুড়ে ‘ইকোনমিক্যাল ডিজাস্টার’ হয়ে গিয়েছে। বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়েছেন বিনিয়োগকারী-শিল্পপতিরা।’ শুধু তাই নয়, হুঁশিয়ারির সুরে শুভেন্দু জানিয়েছেন, কথায় কথায় আন্দোলনের নামে কারখানার গেটে তালা ঝোলানোকে বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্য গুন্ডাদমন আইন লাগু হওয়ার পরে কারখানায় এই ধরনের ঘটনা ঘটলে নতুন আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলা এখন উন্নতির পথে। প্রথমেই গুণ্ডাদমন আইন এনেছি। কারখানার গেটে তালা লাগালে হাজতে থাকতে হবে। কারখানার গেট ভাঙলে, তিনগুণ আদায় করব। নো সিন্ডিকেট, নো কাটমানি, নো উসুলি। জানতে পারলেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব।’

            গত সপ্তাহে হুগলির ডানকুনিতে এক হোসিয়ারি সংস্থার কারখানার সম্প্রসারণ প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। এ বার মেজিয়ায় সম্প্রসারিত হবে ইস্পাত শিল্প সংস্থার কারখানাও। ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে এই সম্প্রসারণের কাজের ভূমিপুজো হয় শুক্রবার।  মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কারখানা সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে ২০ হাজার লোকের চাকরি হবে। নিজের বক্তৃতায় বারবার শিল্পপতি এবং বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছেন শুভেন্দু। দাবি করেছেন, এ বার সরকার পরিবর্তন না-হলে যে সব কারখানা এখনও রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে, সেই অবশিষ্টাংশও ওড়িশায় চলে যেত। তার মন্তব্য, ‘এই সরকার আসার জন্য বাংলা এবং বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। এঁরাও (বিনিয়োগকারীরা) ফিরে আসতে শুরু করেছেন।’

            তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনার হাতে এখন অনেক সময়। আপনি একবার এসে এই প্ল্যান্টের ভিতরটা দেখে যাবেন। আমাকে জানাবেন, আমি সরকারের হেলিকপ্টার দিয়ে দেব।’ অতীতে অ-বাঙালি শিল্পপতি বা হিন্দিভাষী মানুষদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ‘বাহারি’ (বহিরাগত) বলে আক্রমণ করতেন, তার জবাবে শুভেন্দু বলেন, ‘উনি কথায় কথায় অবাঙালি লোকেদের এসে বলেন, এরা বাহারি। উত্তরপ্রদেশ হতে দেব না। অথচ মেজিয়ার এই প্রকল্পে মন্দির আছে, রাধামাধব আছে, শিবলিঙ্গ ও নন্দী মহারাজ আছে, গোশালা ও সবুজায়ন তো আছেই। পাশাপাশি বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির দুই মহান আইকন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিও স্থাপন করা হয়েছে। এদের দয়া করে বাহারি বলবেন না।’ তৃণমূলের সরকার চলে গিয়ে  ‘বাংলা ও বাঙালি বেঁচে গেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

            মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগেই হরিণঘাটায় একটি বড় বাণিজ্যিক সংস্থার নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন, দাদনপাত্রবাড়ি এলাকায় আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগ, গোয়েঙ্কাদের ব্যাটারি কারখানা এবং দু’হাজার শয্যার মেগা হাসপাতাল তৈরি হতে চলেছে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *