ঋতব্রত শিবিরে এবার মদন মিত্র, অভিষেককে তীব্র আক্রমণ, একই সুর অনুব্রতর গলায়
কলকাতা, ১৫ জুলাই– ফের ভাঙণ কালীঘাট তৃণমূলে। এবার শিবির বদল করে ঋতব্রত বা আসল তৃণমূলে যোগ কামারহাটীর বিধায়ক মদন মিত্রের। আর শিবির বদল করেই তার নিশানাতেও সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। চোখে কালো রোদচশমা, সাদা পাঞ্জাবি পরে ঋতব্রতের পাশেই বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। ঋতব্রতের ঘরে বসেই কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
বিষ্ফোরক অভিযোগ তোলেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বোচ্চ নেত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও শোনেন না। তাঁর দাবি, অভিষেক এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে তাঁর কথাই শেষ কথা বলে ধরে নেওয়া হত। মদনের কথায়, অভিষেকের নেতৃত্বের ধরন দলের ভিতরে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দাবি করেছেন, বয়স্ক নেতারা ভয়ে দলের মধ্যে কথা বলতে পারতেন না।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে মদন আজ আরও দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির থেকেও বেশি ভয় পেতেন এবি-কে। শুধু তাই নয়, তার যুক্তি, অভিষেককে সামনে রেখে ভারতীয় জনতা পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা সম্ভব নয়। মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দল সফল হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মদন বলেন, ‘তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। কেবল এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।’ শিবির বদলের পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। মদন বলেন, “দীর্ঘ দিন তিনি (মমতা) আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার।” আগামী ২১ জুলাই তিনি ঋতব্রত শিবিরের কর্মসূচিতেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মদন জানিয়েছেন, শিবির বদলের আগে মমতাকে হোয়াট্সঅ্যাপ করে ‘সরি’ বলেছেন তিনি।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে মদন বলেন, ‘জীবন-মরণ, সাঁকোর সামনে বয়স এখন দাঁড়িয়ে, এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে, আর কী হবে না। কোন সাঁকোটা পারাপারের, কোন সাঁকোটা পার হবে না। জীবনের এই মুহূর্তটায় এসে আমি দাঁড়িয়েছি। এটা ঠিক যে আমি তৃণমূলের বিধায়ক। কিন্তু তৃণমূলের বিধায়ক নই শুধু, আমি বাংলার বিধায়ক। বিধানসভার সদস্য। তৃণমূলের সব ছেড়ে দিলাম মানে দলের বিধায়ক নই। যত পদ ছিল, কলাপাতায় লিখে দেওয়া পদ। সব ছেড়ে দিলাম।’ অভিষেককে নিশানা করে মদন বলেন, ‘তৃণমূলে দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আসলে পার্টিটা অভিষেকের নয়, কর্মীদের। হিটলারি কায়দায় চললে হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে।’ পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রমাণ করুন মদন মিত্র কাউকে টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছে। ২৭ মাস জেল খেটেছি। দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলিনি।’
একই সুরে আজ অভিষেককে বিঁধেছেন অনুব্রত মন্ডল। সাংবাদিকরা আজ তার জেলযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই মেজাজ হারান অনুব্রত। তিনি বলেন, ‘ওসব বাজে কথা বলবেন না। আমি জেলে গেলাম কেন? কার জন্য গেলাম? কী জন্য গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর জন্যই জেলে গিয়েছি।’ নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ হয়েছিল কিনা, সেই প্রসঙ্গেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি জানান, ভোটের ফল প্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাকে চার বার ফোন করেছিলেন। ফোনে দলনেত্রীকে তিনি কী বার্তা দিয়েছিলেন, তা হুবহু তুলে ধরে অনুব্রত বলেন, ‘আমি বলেছি চোখে দেখো না কানে দেখো তুমি! আর শুধরে যাও গা। অভিষেককে তুলে নাও।’ এখানেই থামেননি বীরভূমের কেষ্ট। তার কথায়, ‘বীরভূম থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা রেভিনিউ পেত সরকার। পরে কয়লার জন্য দিনে ৪০ লক্ষ টাকা দিতে হত।’