শনিবার | ২৭ জুন ২০২৬

পাতাল থেকে তুলে এনে গ্রেফতার করতে হবে, দলীয় কর্মী খুনে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

 পাতাল থেকে তুলে এনে গ্রেফতার করতে হবে, দলীয় কর্মী খুনে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা অফিস, ২৭ জুন- হাওড়ার বাগনানে দলীয় কর্মী খুনের ঘটনায় ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, দোষীদের কড়া শাস্তি হবেই। প্রয়োজনে পাতাল থেকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হবে। শনিবার বিকেলে বাগনানে নিহত দলীয় কর্মী প্রশান্ত দে-র বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারে পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি।

            গত ১৭ জুন রাতে বাগনান ৫ নম্বর মণ্ডলের ১৯৭ নম্বর বুথের সহ-সভাপতি, বাঁটুল গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত দে খুন হয়েছিলেন। বিজেপির দাবি, একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন দলেরই কয়েকজন। অভিযোগ, সেখানেই তাদের উপর হামলা চালায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। লাঠি, রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রশান্ত দে-র। তাঁর খোঁজে বারবার ফোন করেন বাড়ির লোকজন। কয়েকবার ফোন না ধরলেও শেষবার ফোনে জানানো হয়, ‘মার্ডার করে দিয়েছি, নিয়ে যা। তোরা কেউ এলেও খুন করে ফেলব।’ সেই ঘটনার পরে অভিযোগের আঙুল ওঠে তৃণমূলের উপপ্রধান মফিজুল রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

            এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই দলীয় কর্মীর বাড়িতে যান। পরিবারের সকলের সঙ্গে কথা বলেন। নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের লোকেরাও দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তোলেন। পরে বাইরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশান্ত খুনের খবর পেয়ে শুরু থেকেই আমি নজর রাখছিলাম। সিট তৈরি করে তদন্ত শুরু হয়। ৫১ জনের নামে এফআইআর হয়েছিল। ধরা পড়েছে ১০ জন। আমি বলছি, দরকারে পাতাল থেকে তুলে এনে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমি এসপিকে বলেছি। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার পর্ব শেষের পর আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীনই চার্জশিট তৈরির কাজ হবে। দোষীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যাতে এখানে কেউ আর আইন হাতে তুলে নিরীহ মানুষদের উপর বিন্দুমাত্র অত্যাচার করার সাহস না পায়। বোঝাতে হবে, আইনের শাসন চলবে। এতদিন শাসকের আইন চলত বলেই আজ এই পরিস্থিতি হয়েছে। প্রশান্ত নেই বলে তাঁর পরিবারকে একা করে দিতে পারব না আমরা। তাই আজ এসে ওঁদের কিছু সাহায্য করে গেলাম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *