মঙ্গলবার | ২৩ জুন ২০২৬

একটি ফুটবল অনেক স্বপ্ন— অদম্য লড়াইয়ে চা-বাগানের মেয়েরা

 একটি ফুটবল অনেক স্বপ্ন— অদম্য লড়াইয়ে চা-বাগানের মেয়েরা

নন্দিতা দত্ত

প্র তিদিন ভোর হয়। আবার রাত হয়। প্রতিটি ভোরের অপেক্ষার অন্তরালে কত স্বপ্ন। স্বপ্ন কখনও অধরা কখনও জাদুকাঠি ছুঁইয়ে দেয়। তারপরেও পারিপার্শ্বিক স্বপ্নকে সফলতার বা ব্যর্থতার মাপকাঠিতে যাচাই করে। এই যাচাই চ্যালেঞ্জকে ছুঁয়ে ফেললে আশার আলো ছড়িয়ে পড়ে। সেই আলোতে আলোকিত করে এমন কিছু মানুষের জীবন যা দেখে আমরা বিস্মিত হই। এমন কিছু কারণ থাকে যার সঙ্গে হয়তো পূর্ব পরিকল্পনার কোনও মিল নেই, হঠাৎ করে ঘটে যায়।
কিন্তু হঠাৎ করে ঘটে গেলেও সেই ঘটনাগুলো যাদের জন্য সংঘটিত হয় তাদের নিয়ে আমরা আলোচনা করি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় আলোচনা তো অনেক দূরে তাদের নামগুলোই আমরা ঠিকমতো জানি না। কিন্তু তাদের কিছু ক্রিয়াকলাপ আমাদের বারবার প্রশ্ন করে কেন আমরা জানি না। সে জানার কৌতূহল থেকেই উঠে আসে নানা সংগ্রামের কাহিনি। বিজয়ের কাহিনি। হেরে গিয়েও হার না মানার কথন। তা যদি আবার মেয়েদের হয় তাহলে অনেক সময় আমাদের কপালে ভাঁজ পড়ে। কপালের ভাঁজ মুছে আবারও ভাবি।
প্রবাসিনী, মৌসুমী, ঝুমা, সৃষ্টি, সুমিত্রা, সবিতা, রেশমি, রেশমা, রত্না, কুন্তী, বীণা, বাণী, স্বপ্না, আমিনা, সজনী, লালপ্রিয়াংসাঙ্গী, কবিতা— নামগুলো পড়তে পড়তে অনেকেই ভাবছেন কয়েকটা মেয়ের নাম কেন? অবশ্যই কয়েকটা মেয়ের নাম পাঁচটা মেয়ের নামের মতোই। এরা ক্লাস সেভেন থেকে কলেজ পড়ুয়া। এই ক’টি কথায় এদের চেনা যায়না। এদের পরিচয়— এরা ত্রিপুরার চা বাগানের মেয়ে। আরও পরিষ্কার করে বলতে গেলে এরা চা-বাগিচা শ্রমিকের মেয়ে। এদের বিশেষত্ব কী? এদের বিশেষত্ব এরা রাজ্য স্তরে এবং রাজ্যের বাইরে ফুটবলার হিসেবে নিজেদের পরিচিত করিয়েছে। অনেকেই ভাবছেন মেয়েরা ফুটবল খেলছে এ এমন কী নতুন কথা! নতুন কথা নতুন স্বপ্ন এদেরকে ঘিরেই।
উত্তর ত্রিপুরার চা-বাগানের ভোরগুলো— ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার গন্ধ মেশানো। কাঁচা মাটির ঘর, অল্প আলো, আর দিন গোনার জীবন। সেই চেনা বাস্তবতার মধ্যেই জন্ম নিয়েছে ওরা। এরা কোনও বড় মঞ্চের মানুষ নন । কিন্তু তাদের পায়ের ছোঁয়ায় ফুটবল যখন গড়িয়ে যায়, তখন যেন বদলে যেতে থাকে এক গোটা সমাজের ভাগ্যরেখা। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, তাদের মা,বাবা চা-বাগানে দিনমজুর। এই মেয়েরাই আজ হয়ে উঠছে এক নিঃশব্দ বিপ্লবের মুখ।
একটু পিছিয়ে যেতে হয় প্রবাসিনী উড়াঙ-কে ২০১৭ সালে কলা উৎসবে দেখেছিলাম। ২০১২ থেকে স্কুল স্তরে ফুটবল খেলে। সেই প্রবাসিনী জাতীয় স্তরে স্কুল গেমসে সুযোগ পেয়েও অংশ নিতে পারেনি। কিন্তু তার ছোটবোন মৌসুমী-কে নিয়ে দিদির স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। পাঁচ বছর আগে, যখন মৌসুমী প্রথমবারের মতো জাতীয় স্তরের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরার হয়ে খেলতে নামলেন, তখন হয়তো কেউ ভাবেনি এই একটিমাত্র ঘটনা এত বড় ঢেউ তুলবে। কিন্তু সেই ঢেউ থামেনি। বরং ছড়িয়ে পড়েছে চা-বাগানের পর চা-বাগানে, এক মেয়ে থেকে শত শত মেয়ের জীবন। যে মাঠে একসময় মেয়েদের পা পড়ত না, সেই মাঠেই এখন প্রতিদিন ভিড় জমায় অনেকগুলো মুখ আর স্বপ্ন। ফুলঝানো অ্যাথলেটিক ক্লাব—একটি নাম, যা এখন শুধু একটি ক্লাব নয়, বরং এক আশ্রয়, এক নতুন দিগন্ত। ১৫০-রও বেশি মেয়ে সেখানে নিয়মিত অনুশীলন করছে। তাদের চোখে আর শুধু টিকে থাকার লড়াই নেই, আছে জেতার ইচ্ছা।
এই পরিবর্তনটা হঠাৎ করে আসেনি। দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, অপুষ্টি, স্কুলছুট আর বাল্যবিবাহের মতো বাস্তবতা এই অঞ্চলকে গ্রাস করে রেখেছিল। মেয়েদের ভবিষ্যৎ যেন আগেই লেখা হয়ে যেত— খুব ছোট গণ্ডির মধ্যে। কিন্তু ফুটবল এসে সেই লেখা বদলে দিয়েছে।
এখন সেই মেয়েরাই মাঠে দৌড়ায়, বল কাড়ে, গোল করে— আর প্রতিটি গোল যেন একটি করে বাঁধ ভাঙার গল্প। তারা আর শুধু চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে নয়, তারা এখন সম্ভাবনার আরেক নাম।
মৌসুমি আজ ত্রিপুরার সিনিয়র মহিলা দলের একজন খেলোয়াড়। তার পথ ধরে উঠে আসছে আরও অনেক নাম— যারা ইতিমধ্যেই রাজ্য দলে নিজেদের জায়গা করে নিতে শুরু করেছে। ক’জনের নাম লিখলাম? রয়ে গেছে আরও অনেক নাম।
এই স্বপ্নযাত্রা অবশ্য সহজ নয়। মাঠের বাইরে লড়াইটা আরও কঠিন। অর্থের অভাব, সুযোগের সীমাবদ্ধতা— সবকিছুই প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। তবুও কিছু মানুষ আছেন, যারা হাল ছাড়েননি। তাদের পরিশ্রম, তাদের বিশ্বাস, আর মেয়েদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি— সব মিলিয়ে এই গল্পটা এগিয়ে চলেছে।
ক্লাবের কোচ, সংগঠক, সমাজকর্মী—সবাই মিলে যেন এক অদৃশ্য জাল বুনেছেন, যার ভেতরে এই মেয়েরা নিরাপদে বড় হয়ে উঠছে। তাদের জন্য জোগাড় হচ্ছে জার্সি, জুতো, খাবার, যাতায়াত ব্যবস্থা— প্রতিটি ছোট ছোট প্রয়োজন।
আজ উত্তর ত্রিপুরার সেই চা-বাগানগুলো আর আগের মতো নেই। সেখানে এখন শুধু শ্রমের শব্দ নয়, শোনা যায় বাঁশির ডাক, জুতোর শব্দ, আর গোল হওয়ার উচ্ছ্বাস।
এই লড়াই এখনও শেষ হয়নি। বরং শুরু হয়েছে নতুন করে। প্রতিটি নতুন মেয়ে, যে প্রথমবারের মতো বলটাকে ছুঁয়ে দেখে, তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আরেকটি সম্ভাবনা—আরেকটি মৌসুমি হয়ে ওঠার গল্প।
তাদের স্বপ্ন সাকার করার কারিগর কে? কারা তাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে? তাহলে কাহিনি শুরুর ইতিহাস জানতে হয়। প্রণব রায় প্রকাশক ও ব্যবসায়ী। কর্মসূত্রে অরুণাচলের বাসিন্দা। পিতৃভূমি আগরতলা। জয়দীপ রায় ব্যবসায়ী ও সংগঠক। কৈলাসহরেই জন্ম, বেড়ে ওঠা। তুতোভাই দু’জনের ইচ্ছা অকৃতদার বৃদ্ধপ্রপিতামহ রাজ দ্বারপণ্ডিত বৈকুণ্ঠ নাথ রায়ের স্মৃতিতে কিছু করার। পিতা বৈদ্যনাথ রায় মাতা দুর্গা সুন্দরী দেবীর সন্তান বৈকুণ্ঠ নাথ অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। ঢাকা থেকে নবদ্বীপে পড়াশুনা করে তর্কভূষণ উপাধি নিয়ে ফিরে এসে চতুষ্পাটি স্থাপন করে ছাত্রদের পড়াতেন। ১৮৬৫ সালে মহারাজা বীরচন্দ্রের আমন্ত্রণে ত্রিপুরায় আসেন। ১৮৬৫ থেকে ১৯২৮ অবধি আমৃত্যু ত্রিপুরার দ্বারপণ্ডিত ও সভাপণ্ডিত ছিলেন। মহামহোপাধ্যায় উপাধি খ্যাত বৈকুণ্ঠ নাথ তর্কভূষণ ‘শ্রী রাজমালার দ্বিতীয় লহর’ সম্পাদনায় সহায়তা করেছিলেন, তথ্যসূত্রে জানা গেছে।
কিছু কিশোরীর স্বপ্নের সঙ্গে বৈকুণ্ঠ নাথ তর্কভূষণের কী সম্পর্ক? প্রণব এবং জয়দীপের স্বপ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত তাদের বৃদ্ধ প্রপিতামহের নাম। এবং এই মেয়েদের ফুটবল দল বৈকুণ্ঠ নাথ তর্কভূষণ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহায়তায় শৈশবে পা রেখেছে।
কৈলাসহরের রাঙরুঙ চা বাগানের হামদের পরব উদযাপনকে কেন্দ্র করে চা বাগান এলাকার সমস্ত আদিবাসী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ঝুমুর নাচ, করম গান, টুসু গান, লাঠি নাচ, ধামাইল নিয়ে অংশগ্রহণ করে। এই চা-বাগান অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে তৈরি হয় ফুলঝানো অ্যাথলেটিকস ক্লাব। এই ক্লাবেরই মেয়েদের ফুটবল টিমে উল্লেখযোগ্য নাম প্রবাসিনী। লেফট ব্যাকে খেলত। একটা সময় টিমের ক্যাপ্টেন ছিল বর্তমানে সম্পাদক।
ফুলঝানো অ্যাটলেটিক্স ক্লাবের অনূর্ধ্ব ১৩ অনূর্ধ্ব ১৫ অনূর্ধ্ব ১৭ মেয়েরাই হয়ে উঠেছে নিঃশব্দ বিপ্লবের মুখ। একটি দু’টি করে আজ অনেক কিশোরী ফুটবলকে ধ্যান জ্ঞান করেছে। কিন্তু সেই মেয়েদের খেলা দেখে উৎসাহ জোগাতে আমরা ক’জন যাই? উমাকান্ত ময়দানে অস্মিতা লিগে ফ্লাড লাইটের আলোয় যখন মধ্যমাঠে ওদের লড়াই দেখছিলাম সে সময় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আমন্ত্রিত অতিথি কর্মকর্তারা ছাড়া আমরা হাতে গোনা জনা পাঁচেক দর্শক তখন গ্যালারিতে।
ফুলঝানো ক্লাবের স্বপ্নযাত্রা খুব কঠিন। মাঠের বাইরের লড়াইটা আরও কঠিন। অর্থের অভাব সুযোগের সীমাবদ্ধতা প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছে মেয়েদের জোড়া পাগুলোতে। তাদের স্বপ্ন সাকার করতে কিছু মানুষ এগিয়ে আসছেন। তাদের পরিশ্রম তাদের বিশ্বাস আর মেয়েদের অদম্য ইচ্ছা শক্তি এই ত্রিমুখী শক্তি এগিয়ে যাচ্ছে বাস্তবের কঠিন জমিতে। বৈকুণ্ঠ নাথ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট-এর প্রণব রায় এবং জয়দীপ রায় বিভিন্ন ভাবে লড়াই করছেন। জার্সি জুতো খাবার যাতায়াতের ব্যবস্থা প্রতিটি ব্যাপারেই তাদের নজর রাখতে হয়। পাশাপাশি তাদের আধার কার্ড, প্যানকার্ড, ব্যাংক একাউন্ট-সহ সমস্ত নথিপত্র বিষয়ে জয়দীপ রায় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে চলেছেন।
শুধু ফুটবল নয়, তীরন্দাজিতে তৈরি করছেন ছেলেমেয়েদের। খেলার মাঠের বাইরে ফুলঝানো ক্লাবের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্রতিবারের মতো এবারেও বিনামূল্যে সাজেশান দেওয়া হয়েছে। পিপি পাবলিকেশন, চা-শ্রমিক উন্নয়ন সমিতি এবং বৈকুণ্ঠ নাথ তর্কভূষণ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের একত্র উদ্যোগে।
অপুষ্টি, ভগ্নস্বাস্থ্য নাবালিকা বিয়ে আরও নানা সমস্যা নিয়ে চা-বাগানের মেয়েদের জীবনে একটি ছকেবাঁধা। তার মধ্য থেকে একঝাঁক মেয়ে ফুটবলের দিকে কেন ঝুঁকল? মুক্তির আলোর সন্ধানে অন্যভাবে বাঁচার ইচ্ছেয়? প্রবাসিনীকে দেখে উৎসাহটা মেয়েদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে। চা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মেয়েদের ঘর আর চা বাগান পেরিয়ে ফুটবল মাঠে ঝাঁপানো কীসের ইঙ্গিত? ফুলঝানো স্মৃতি টুর্নামেন্ট পেরিয়ে অস্মিতা লিগ খেলো ইন্ডিয়া টিমের খেলার সুযোগ, জাতীয় দলে খেলার সুযোগ তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। শুধু মাঝ মাঠের পর তাদের আর একটু ছন্দে আসতে হবে। হবে বললেই হবে না টেকনিক্যাল কোচিং (কোচ আছেন) এর পাশাপাশি মোটিভেশনাল কোচিং প্রয়োজন। মেয়েরা জাতীয় দলে সুযোগ পেলে তাদেরকে যথাযোগ্য ব্যবস্থাপনা দেওয়ার দায়িত্বের হাতগুলো আরও বিস্তৃত হওয়া দরকার। মেয়েগুলো পরিশ্রম করতে পারে। পায়ে দক্ষতা আছে। বুদ্ধিমত্তা আছে। উপস্থিত পরিস্থিতি সামলাতে পারে এমন কুড়ি-পঁচিশ জন মেয়েকে বাছাই করে প্রতিটি মেয়েকে বছরভর ব্যক্তি বিশেষ বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপ খুব প্রয়োজন।
টিএফএ তাদের জন্য যতটুকু করার সেটা করছে। টিএফএ সভাপতি অমিত চৌধুরী জানালেন, একটি ক্লাবকে কোন টুর্নামেন্টে টিএফএ তাদের ক্ষমতা অনুযায়ী সাহায্য করছে।
ফুলঝানো ক্লাবের মেয়েদের সাফল্যের দিকে যদি একবার নজর দেওয়া যাক। অনূর্ধ্ব ১৩-র দলটি দুইবার অস্মিতা লীগে অংশ নেয় এবং রানার্স হয়। অনুর্ধ ১৫ দুইবার অস্মিতা লীগে তৃতীয় স্থান পায়। ২০২৫-এ হায়দ্রাবাদে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উৎসবে হায়দ্রাবাদের মেয়েদের সঙ্গে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যে দল খেলেছিল তাতে ফুলঝানো ক্লাবের ৭টি মেয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। এদের মধ্যে খেলো ইন্ডিয়াতে মৌসুমী উড়াঙ সুযোগ পেয়ে নজর কেড়েছে।
সমস্ত স্বপ্নকে সাকার করার পথে কীভাবে এগিয়ে চলেছেন? বৈকুণ্ঠ নাথ তর্কভূষণ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষে সমাজকর্মী জয়দীপ রায় জানান, ‘ফুটবলে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের টিম ও খেলে। প্রায় দেড়শো মেয়ে এখন ফুটবল অনুশীলন করে। এছাড়া অ্যাথলেটিকস-এর ক্ষেত্রেও আমরা নজর দিচ্ছি। তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাবার জন্য নানাভাবে আমরা সাহায্য পাই এবং আরও অনেকে এগিয়ে এলেই আমাদের প্রচেষ্টায় আরোও গতি আসবে। আমাদের চারটি দল। তিনটি বয়স ভিত্তিক দল খেলছে অস্মিতা লীগে (খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচির অন্তর্গত) আর একটি দল ত্রিপুরা ফুটবল এসোসিয়েশনের অফিসিয়াল মহিলা লীগে।’

চা-বাগানের গণ্ডি পেরিয়ে ফুটবল মাঠে ওরা ছুটছে, ওদের স্বপ্ন বাস্তব হবে যখন প্রতিটি পজিশনে খেলার সমান দক্ষতা নিয়ে সারা মাঠ দাপাতে পারবে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আরও শক্তি, আরও দক্ষতা চাই। ওদের স্বপ্নের ফুটবলার মেসি, ক্যালি, রোনাল্ডো, সুনীল ছেত্রী। তাদের খেলা দেখে ইউটিউবে বা টিভিতে। কথা বলার সময় ওদের চোখে মুখে যে মুগ্ধতা দেখলাম, কোনও সন্দেহ নেই, ওরা প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে ফুটবলকে। যে ফুটবল তাদের চাকরি বা বিশেষ কিছু দেবে কিনা, তা তারা জানেনা। ফুলঝানো ক্লাবে একদল মেয়েরা এসেছে, খেলছে, আরও আসবে— খেলবে আবার নতুন মেয়েরা স্বপ্ন দেখবে— সেই স্বপ্ন সফল করার রাস্তা দীর্ঘ।
দু’পায়ের জাদুতে জয় করবে রাজ্যের বাইরে খেলে— সেই স্বপ্নের মুখগুলো মৌসুমী, ঝুমা, সজনী, কুন্তী, বাণী, বীণা, সুমিত্রা, সৃষ্টি, আমিনা, লালপ্রিয়াংসাঙ্গী, কবিতা, রেশমা-সহ আরও অনেক নাম না জানা কিশোরীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *