বৃহস্পতিবার | ১১ জুন ২০২৬

অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ তিনি মেনে নিতে পারছেন না, দিদিকে চরম বার্তা কল্যাণের

 অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ তিনি মেনে নিতে পারছেন না, দিদিকে চরম বার্তা কল্যাণের

কলকাতা, ১১ জুন– একের পর এক বিধায়ক এবং সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরে গেলেও দলের দুর্দিনে তার পাশে যে কয়েকজন দাঁড়িয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই কল্যাণও দলের মধ্যে বিদ্রোহী। সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনায় সরব হলেন তিনি। এমনকী অভিষেকের যেসব মামলায় তিনি আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করছিলেন সেইসব মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন হঠাৎ করে। দাবি করলেন, দলের মধ্যে অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

            সই কান্ডের তদন্তে অভিষেক রক্ষাকবচ চাইলেও তাকে বৃহস্পতিবারই সিআইডির তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। এমনকী তদন্তে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনে দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরে কালীঘাটের বাড়ি হয়ে আদালতের নির্দেশ মেনে সোজা ভবানীভবনে যান অভিষেক। অভিষেকের এই মামলাকে কেন্দ্র করেই যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বুধবার রাতে তার পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হয়, অন্য আইনজীবী মামলাটির জন্য সওয়াল করবেন। তার পরেই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি বলেন, ‘আমি অভিষেকের মামলা ছেড়ে দিয়েছি। কী উদ্ধত রে বাবা! কাল (বুধবার) আমি ওর মামলার কথা আদালতে উল্লেখ করলাম। মমতাদির বাড়িতে সিআইডি-র যাওয়ার বিষয়টিও তুললাম। অভিষেকের মামলাটা কোনও কারণে কাল কোর্ট শোনেনি। আমরা বিচারপতি কৌশিক চন্দকে বলি, এটা জরুরি ভিত্তিতে শুনুন। আজ শুনানি হতো।’ তার আরও মন্তব্য, ‘কাল রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলা হয়েছে, জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। আমাকে ডাস্টবিনের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি বলে দিয়েছি এর (অভিষেক) সঙ্গে থাকব না। এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। এই উদ্ধত মনোভাব মেনে নেব না। আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।’

অভিষেককে তীব্র কটাক্ষ করে কল্যাণ বলেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গের এক নম্বর সৎ রাজনীতিক। ওর জন্য আমাদের চোর-চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে।’ কল্যাণ যে বেজায় চটেছেন তা তার মন্তব্যে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় দিদির পাশে আছি। কিন্তু তার পরেও যদি অভিষেক এই রকম ঔদ্ধত্য দেখায়, আমাদের কর্মচারী মনে করে, তা হলে করার কিছু নেই। মমতাদিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তিনি অভিষেককে নিয়ে থাকবেন, না কি আমার মতো যারা অভিষেকের বিরুদ্ধে, তাদের নিয়ে থাকবেন।’ তার সংযোজন, ‘অভিষেকের সঙ্গে দিদির রক্তের সম্পর্ক। ওঁর ভাইপো। কিন্তু আমার মতো মানুষের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক নেই। কিন্তু আমরা ৪০ বছর দিদির কাছে কাজ করেছি, লড়েছি। এখন দিদিকে বেছে নিতে হবে, কাকে উনি রাখবেন। অভিষেক পদে থাকলে দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আমাকে চলে যেতে হবে।’ ২০২২ সালে ডায়মন্ডহারবার মডেল নিয়ে যে তিনি দলের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *