জল্পনার অবসান, কলকাতার মেয়র পদে ইস্তফা ফিরহাদের
কলকাতা, ৫ জুন- কলকাতা পুর নিগমের মেয়র পদে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার প্রসঙ্গ ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা শুরু হয়েছে। অবশেষে শুক্রবার মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ। নিজেই সাংবাদিক বৈঠক করে এই কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবারই বিধাননগরের মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। এবার ফিরহাদের ইস্তফায় হাতছাড়া হল কলকাতা পুর নিগম।
শুক্রবার পুর নিগমের চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে ইস্তফা দিয়েই ফিরহাদ জানালেন, ‘নিধিরাম সর্দার’ হয়ে আর তিনি কাজ করতে পারছেন না। আজ মেয়র হিসেবে শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে ফিরহাদ বলেন, ‘দাপটের সঙ্গে কাজ করেছি। যারা পুরসভায় আসতেন, তাদের সমস্যার সমাধান করার কাজ করতাম। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। চেয়ারের সম্মানহানি করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকলাম অথচ ঢাল নেই, তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার। তাই আমি আজ ইস্তফা দিচ্ছি।’ ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ। তাকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান ফিরহাদ।
ইস্তফার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি নিয়েছিলেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, ‘দলের তরফে আমি অনুমতি চেয়েছিলাম। সসম্মানে চলে যেতে চাই। উনি (মমতা) বলেছেন ঠিক আছে।’ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সদ্য প্রাক্তন মেয়রের বার্তা, ‘স্বচ্ছ ভাবে পুরসভা চালান, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করুন।’ রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতার পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্বভার কার্যত চলে গিয়েছিল পুুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে। তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর ‘স্বাধীন ভাবে’ কাজ করতে না-পারার অভিযোগ করছিলেন। এবার পুর নিগমের মেয়রের পদ থেকেই সরে দাঁড়ালেন ফিরহাদ।
ফিরহাদের ইস্তফা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বুধবার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফিরহাদের আলোচনা হয়েছে। তবে কুণালের সেই মন্তব্যের পরেও এ নিয়ে কিছু বলতে চাননি ফিরহাদ। এদিন আচমকাই মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন তিনি।