মঙ্গলবার | ২৬ মে ২০২৬

“দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ? মোদি সরকারকে নিশানা রাহুল গান্ধীর”

 “দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ? মোদি সরকারকে নিশানা রাহুল গান্ধীর”

বড় কথা বলেই দিলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর এই বয়ান দেশের বরাজনীতিতে ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে ইতোমধ্যে বয়ানা দেশের অতীতেও দেখা গেছে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যতবারই বয়ান দিয়েছেন, তা অনেকাংশেই মিলে গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় বিজেপি তাঁকে কটাক্ষ করলেও, মিডিয়া রাহুল গান্ধীর বয়ানকে উড়িয়ে দিলেও পরবর্তীতে দেখা গেছে, রাহুল গান্ধীর বয়ানই যথার্থ বলে প্রতিপন্ন হচ্ছে। সম্প্রতিও রাহুল গান্ধী বয়ান দিয়েছেন যে, দেশে ব্যাপক ঝড় আসছে। সেই ঝড়ে তছনছ হবে আমাদের দেশ। অর্থনীতি ডুববে। বেকারত্ব বাড়বে। মূল্যবৃদ্ধি লাগামছাড়া হারে বাড়বে, ছোট, মাঝারি ব্যবসা ব্যাপক হারে মার খাবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাঁচ দেশ সফর করে ফিরেছেন। পাঁচ দেশ সফরে ভারতের প্রাপ্তি কী, তা দেশবাসী জানেন না। কিন্তু পাঁচ দেশ যাওয়ার পূর্বে দেশবাসীর উদ্দেশে কিছু বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা ছিল- সোনা কিনবেন না এক বছর, বিদেশে যাবেন না এক বছর, পেট্রোল-ডিজেল যত কম ব্যবহার করুন, বাড়ি থেকে বেশিরভাগ কাজ করুন অর্থাৎ ওয়ার্ক ফ্রম হোমে জোর দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদেশি জিনিস ব্যবহার বা কেনা থেকে যতটা পারা যায় বিরত থাকার ক্ষেত্রেও জোর দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই প্রধানমন্ত্রী পাঁচ দেশ সফরে বেরিয়ে যান। এবার পাঁচ দেশ সফর সেরে এসে ঘন ঘন বৈঠক করছেন। বৈঠকে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং এজন্য মন্ত্রীদের টার্গেট ফিক্সড করে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। চলতি সংকট থেকে দেশ কীভাবে বেরিয়ে আসবে, তা কিন্তু এখনও অজানা দেশবাসীর।

এরই মধ্যে কংগ্রেসের নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একটি বড় কথা বলেছেন। রাহুল গান্ধী বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পতন নিশ্চিত। রবিবার কংগ্রেসের মাইনোরিটি পরামর্শদাতা কমিটির একটি বৈঠক ছিল। এই বৈঠকেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই মন্তব্য করেছেন। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। একদিকে দেশে চলছে এর পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা। অন্যদিকে পাল্টা রাহুলকে বিঁধতে ময়দানে নেমেছে বিজেপিও।

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের পেছনে চারটি কারণ রয়েছে বলে কংগ্রেস জানিয়েছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের উপর বর্তমান সংকট নেমে এসেছে। একদিকে অর্থনীতির উপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। ডলারের দাম বাড়ছে, টাকার পতন হচ্ছে। দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। কেননা, পেট্রোপণ্যের দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আমাদের দেশের আজকের সংকটের জন্য দায়ী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন্দ্রীয় সরকার এর কী নিদান দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মূল্যবৃদ্ধি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আকাশছোঁয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জনজীবনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে চলেছে। তৃতীয়ত, দেশে বাড়ন্ত বেরোজগারি। কর্মসংস্থান নেই। বেকার যুবক-যুবতীরা দিশাহারা। তারা কর্মসংস্থানের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। কাজ পাচ্ছে না তারা। রাহুল গান্ধী সরাসরি এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করছেন। চতুর্থত, এই সমস্ত কারণে সামাজিক অসন্তোষ বাড়ছে দেশের দিকে দিকে এবং আগামীদিনে আরও বাড়বে।

রাহুল গান্ধীর আরও বক্তব্য, সামাজিক এই অসন্তোষ একটা সময় এমন আকার ধারণ করবে যে সরকার তা আর সামাল দিতে পারবে না। মানুষ কাজের দাবিতে, খাদ্যের দাবিতে রাস্তায় নামবে। আন্দোলন করবে। এককথায়, এই আন্দোলন হবে সামাজিক আন্দোলন, মানুষের আন্দোলন। আর তাতে শেষ পর্যন্ত মোদির পতনই দেখতে পাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। এজন্যই রাহুল গান্ধীর মত, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ভয়ানক পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হবেন মোদি। তাই তাঁর পতন অনিবার্য।

যদিও বিজেপি তা মানতে নারাজ। বিজেপির মত হলো, রাহুল গান্ধীর এই ধরনের বয়ান দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবে। এটা একটা ষড়যন্ত্র। এই ধরনের বয়ান সমাজে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য উৎসাহী করে তুলবে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও স্বীকার করেছেন যে, সত্যি সত্যিই দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ। এর জন্য তিনি দায়ী করেছেন পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইত্যাদিকে। তবে একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মজবুতির সঙ্গে এই পরিস্থিতি থেকে উতরাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। শেষ পর্যন্ত তাই হলেই দেশের মঙ্গল। চতুর্থ অর্থনীতির দেশ এখন ষষ্ঠ অর্থনীতির দেশ হয়ে গেছে কিছুদিনের মধ্যে। ডলারের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে দেশের আর্থিক পরিস্থিতির আরও অবনমন হলেও তাতে অবাক হওয়ার মতো কিছু হবে না। সুতরাং সরকার সময় থাকতে ব্যবস্থা নিলে ভালো। দেশের মধ্যে ধনী-গরিবের লড়াই হোক আগামীতে, তা আমরা কেউই চাই না|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *