সাক্ষাৎকার : ‘প্রেমের যখন নিজস্ব বসত বাড়ি হয় তখন সেটা ভালোবাসায় পরিণত হয়’
সাম্প্রতিক বাংলা কবিতায় যে কয়েকজন তরুণ কবি পাঠককে আলোড়িত করেছেন, করছেন তাদের মধ্যে শব্দ সুমিত অন্যতম। ২০২৬-এর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় শব্দ সুমিতের ‘নোলক পরা নদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। সেই গ্রন্থ নিয়েই দু’-চার কথায় বাসব মৈত্র।
প্রথমে যেটা জানতে চাইব, সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক কবে থেকে? সাহিত্যের এতগুলো শাখার মধ্যে কবিতায় উৎসাহী হলেন কেন?
সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই। মায়ের সঙ্গে রেডিও শুনতাম। আকাশবাণী কলকাতায় রবিবার ‘শিশুমহল’, ‘গল্প দাদুর আসর’-এ চিঠি পাঠাতাম। কখনো চিঠির নির্দিষ্ট বিষয় থাকত। এভাবেই শুরু। তার পর ২০০৯-এ প্রথম কবিতা লেখা। তখন অবশ্য কবিতা বলতেই বুঝতাম অন্তমিল। ধানের সঙ্গে পান, চানের সঙ্গে গান এভাবে মিলিয়ে লেখা শুরু। পরবর্তীতে সব তাচ্ছিল্য অগ্রাহ্য করে বাংলা সাহিত্যেই পড়াশোনা।
সাহিত্যের এতগুলো শাখার মধ্যে শুধুই যে কবিতায় উৎসাহী সেটা আংশিক সত্য। তবে বাংলা সাহিত্য শুরুই হয়েছে কবিতা দিয়ে। চর্যাপদ। সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে কবিতার প্রতি তো একটা দুর্বলতা থেকেই যায়। তাছাড়া যে কোনো সাহিত্যিক সাহিত্য-জীবনে একটাও কবিতা লেখেননি সেরকম খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। (যদিও আমি নিজেকে ওঁদের সঙ্গে তুলনা করে বলছি না। দুর্বলতার ক্ষেত্রটুকু বোঝালাম।)
এই সময় দাঁড়িয়ে বাংলা কবিতা লেখার জন্য প্রচলিত ছন্দজ্ঞান কীভাবে আপনার বোধকে উন্নত করতে পারে বলে মনে হয়?
বাংলা কবিতার ছন্দ বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হতে হতে এসেছে। একসময় শুধু পাঁচালি ছন্দে কবিতা লেখা হতো। তার পর রবীন্দ্রনাথ ‘বলাকা’য় মুক্তক ছন্দ ব্যবহার করলেন। মধুকবি সৃষ্টি করলেন অমিত্রাক্ষর। আধুনিক কবিতায় এলো গদ্য ছন্দ। অনেকেই মনে করেন গদ্য ছন্দে কবিতা লেখা খুবই সহজ। তাই হয়তো আধুনিক কবিরা সহজেই গদ্য ছন্দ আঁকড়ে ধরেন। কল্লোলের কবিরা যখন রবীন্দ্রনাথকে আক্রমণ করেছেন কবিতায়, ছন্দবদ্ধ সুন্দরের বাড়াবাড়ি বলে প্রশ্ন তুলছেন, তখন শেষ বয়সে এসে ‘লিপিকা’য় গদ্য ছন্দ ব্যবহার করে দেখালেন রবি ঠাকুর। পরে ‘পুনশ্চ’ লিখলেন।
আধুনিক এই ছন্দ জ্ঞানে বোধ উন্নত করতে অবশ্যই আমাকে জীবনানন্দ দাশ পড়তে হয়। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ে বুঁদ হতে হয়। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অনুসরণ করতে হয়। বুদ্ধদেব বসু চোখ বোলাতে হয়। মণিভূষণ ভট্টাচার্য সঙ্গে রাখতে হয়। এছাড়াও শঙ্খ ঘোষ, প্রেমেন্দ্র মিত্র, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, ভাস্কর চক্রবর্তী তো সব সময়ের সঙ্গী।
সম্প্রতি আপনার কাব্যগ্রন্থ ‘নোলক পরা নদী’ প্রকাশিত হয়েছে। নদী— নোলক পরা, এরকম একটা ভাবনার উৎস কোথায়?
হ্যাঁ। প্রাচীন সভ্যতা ছিল নদী কেন্দ্রিক। নদী যেন নারী সত্তার প্রতীক। সবুজ গর্ভের প্রতীক। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে নদী জীবিকা অর্জনের একটি উপায় বা মাধ্যম ছিল। তা সে চাষ আবাদ হোক, মৎস্য শিকার হোক বা খেয়া পারাপার হোক ইত্যাদি নানা উপায়ে মানুষ স্বাবলম্বী হতো। নামকরণের এটা একটা দিক।
‘নোলক’ একটি প্রাচীন অলংকার। স্ত্রী-মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করত। তাই আমি নদীকে নোলক পরিয়ে সেই আবেশ রাখতে চেয়েছি। তাছাড়া কাব্যগ্রন্থে এটি একটি নাম কবিতাও বটে। যেখান থেকে বইটির নাম নির্বাচনে এটা মাথায় আসে।
এবার আসি দ্বিতীয় প্রসঙ্গে। আসলে আমাদের এত তাড়াহুড়ো এবং বাস্তব জীবনে আমরা এত চঞ্চল এই চঞ্চলতার কারণে বা এই নাগরিক ব্যস্ততার কারণে আমাদের অনেক সত্য চোখের সামনে থেকেও দৃষ্টির বাইরে চলে যায়। আমরা এত বেশি নাগরিক হয়ে পড়ছি সব অর্থকে আমরা অভিধান দিয়ে খুঁজতে যাই। সব সময় আমাদের মনের মধ্যে একটা উদ্দীপনা কাজ করে। একটা চাহিদা কাজ করে যে, আমাকে প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু কবিতা তো প্রমাণ করার জিনিস না। ‘সাহিত্যের পথে’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ বলছেন যে, কবিতাকে বুদ্ধিগ্রাহ্য হলে হবে না সেটাকে হৃদয়গ্রাহ্য হতে হবে। তাই সাধারণভাবে মনে হয় নদী আবার নোলক পরে নাকি! বুদ্ধিগ্রাহ্যতায় নদীকে জড়বস্তু ভাবলে হবে না। আমরা মানুষ। কখনো কখনো হতে পারে আমরা নির্বাক। নিঃশব্দ। তার মানে আমরা জড় বস্তু ? আমাদের নীরবতার ভাষা, নৈঃশব্দের কথাগুলো কি বাঙময় হতে পারে না! আমরা এত বেশি নাগরিক হয়ে পড়ছি যে আমাদের প্রকৃতি দেখার শক্তি লোপ পাচ্ছে। আমরা আমাদের জন্ম, আমাদের উৎস ভুলে যাচ্ছি।
কিন্তু আমরা তো দুই প্রকার। এক, পুরুষ। দুই, প্রকৃতি। প্রকৃতির সঙ্গে পুরুষের যে মেলবন্ধন সেটা নিয়েই আমাদের পৃথিবী সৃষ্টি। সুতরাং নদী কিন্তু প্রাচীন একটা অংশ। তাই অন্যান্য গহনার তুলনায় আমি ‘নোলক’ শব্দটাকে বেছে নিয়েছি।
এবার আসি নদীর অলংকার কেন বললাম আমি গাছের বলতে পারতাম। আমি পাহাড়ের বলতে পারতাম। আসলে আমাদের সভ্যতা তৈরি হয়েছে কিন্তু নদী কেন্দ্রিক। যেখানে যেখানে নদী ছিল সেখানেই আমাদের নগর গড়ে উঠেছে। আবার নদী যেমন দেয় নদী তেমনি কিন্তু সব শেষ করে দেয় ছারখার করে দিতে পারে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারে সুতরাং আপাত ভাবে আমরা যে জিনিসটাকে শান্ত দেখছি আদতে সে শান্ত নয়। আমরা সহনশীল শান্ত মানেই মেরুদণ্ডহীন নই।
তাছাড়া এই বইটিতে যে কবিতাগুলি আছে অনেকটা সম্পর্কের মতো। নদীও সম্পর্ক তৈরি করে।
‘প্রেম ও ভাড়াবাড়ি’ কবিতায় আপনি লিখেছেন, ‘প্রেম অনেকটা ভাড়া বাড়ির মতো’— প্রেমের নিজস্ব কোনো বসত বাড়ি, ভিটে নেই বলছেন?
প্রেমের যখন নিজস্ব বসত বাড়ি হয় তখন সেটা ভালোবাসায় পরিণত হয়। প্রেম একটা পথ। যার মাধ্যমে ভালোবাসায় পৌঁছে যাই আমরা। আশাকরি বোঝাতে পারলাম।
এই কবিতার সূত্র ধরেই বলি, প্রেম ও মানিয়ে নেওয়া— এটা কি একই মুদ্রার দুই পিঠ?
দেখুন, ‘মানিয়ে নেওয়া’ শব্দটায় এখন আমরা এমন মানে তৈরি করে ফেলেছি যেটা খুব অসহিষ্ণু। বিষয়টাকে এত নিচু চোখে দেখতে শুরু করেছি যে সম্পর্ক ভাঙার সংখ্যাটা ঊর্ধমুখী। যদিও তার কিছু সংগত কারণও আছে। কিন্তু কতিপয় কারণ দেখে পুরো বিষয়টাতে শীলমোহর বসিয়ে দেওয়াটা কি সঙ্গত হবে?
‘মানিয়ে নেওয়া’কে আমি সহযোগিতার সম্পর্ক হিসেবে দেখতে চেয়েছি। তার মানে ‘মানিয়ে নেওয়া’-টা আমি একবারও ‘মেনে নেওয়া’ অর্থে উপস্থাপন করিনি। করতে রাজিও নই।
ভালোবাসা আর প্রেম আপনার কাছে কীরকম? এদের মধ্যে পার্থক্য করেন? নাকি একই রকম বলে মনে করেন?
‘ভালোবাসা’ আর ‘প্রেম ’ খুব কাছাকাছি দুটো শব্দ। এদের পার্থক্য করা হয়তো খুব কঠিন। তবে আপনাকে ছোট্ট করে বলে দিই। প্রেমের অনেক ধাপ আছে। পর্যায় আছে। পূর্বরাগ, অনুরাগ ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলির মাধ্যমে ভালোবাসায় পৌঁছতে হয়।
কবিতাকে আপনি সংকেতে ভাসিয়ে দিতে চান। মানবেন?
‘ভাসিয়ে দিতে চাই’ এই কথাটাতে আমার আপত্তি আছে। কবিতায় আমরা ভেসে থাকি। আর সংকেত তো শব্দ চয়ন ও প্রয়োগ কৌশলে তৈরি হয়। সেটা এক একজন পাঠকের মনে এক এক রকম চিত্রকল্প তৈরি করে। তাই সব লেখায় একবারে স্পষ্ট করে কোনো সংকেত দেওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি। ওই ফাঁক টুকুতে পাঠকের মন সাঁতার কাটুক।
‘শোক’ কবিতায় লিখছেন, ‘জল আর পাথরের মধ্যে খেলা হয় অনন্তের/ তাইতো অশ্রু’— কত সহজ শব্দে আবহমানকে ছুঁয়ে দিলেন। এই যে ভাবনা এটা কি হঠাৎ মাথায় খেলে যায়? নাকি এর জন্য বহু ভাবনা, পংক্তি কাটাকুটির রক্তক্ষরণ রয়েছে নেপথ্যে?
হঠাৎ করে খেলে যায় আপাত ভাবে মনে হলেও কোনো কার্যই আকস্মিক ঘটে না। অবচেতন মনে তার কারণ থাকেই। সেটা আমরা অজান্তেই পুষি। এবার যখন আবেগ গিয়ে ধাক্কা মারে সেটার স্ফুরণ হয় লেখায়। পরে সেটা থেকে নির্যাসটুকু ছেঁকে নিয়ে উপস্থাপন করি।
আপনার দীর্ঘ কবিতার তুলনায় সাংকেতিক কবিতার অভিঘাত অনেক বেশি। কী বলবেন? যদিও বহুক্ষেত্রেই আপনার দীর্ঘ কবিতা সর্বোচ্চ ১৫ লাইনের। কবিতাকে দীর্ঘ করতে চান না কেন?
দীর্ঘ কবিতা যে লিখিনি তা নয়। তবে এই বইটিতে সব কবিতাই ছোট। বইতে যাতে লেখাগুলির সামঞ্জস্য থাকে তাই বড় কবিতা নির্বাচন করা হয়নি।
এবার আসি আপনার প্রশ্নের দ্বিতীয় প্রসঙ্গে। আগেও একটি উত্তরে উল্লেখ করেছি পাঠকের মনের সাঁতার কাটার কথা। আমি চেয়েছি কবিতা দু’জনে লিখতে। কোনো কবিতা পড়ে পাঠক যদি একটুও আনমনা হয়ে ওঠেন, ওই অংশটুকুই আমার সার্থক কবিতা। এক কলম লিখে আপনাকে যদি দশ কলম ভাবাতে পারি এটাই তো সার্থকতা। তাই না?
‘ভ্রমরকথা’ কবিতায় লিখেছেন, ‘আসলে যে দূরত্বে ভালোবাসা বাঁচে না,/ সেখানে দীর্ঘশ্বাস সড়ক নির্মাণ করে’— সড়ক এখানে কীসের ব্যঞ্জনা?
সড়ক অর্থে রাজপথ বোঝাতে চেয়েছি। আর যদি ব্যঞ্জনা বলেন, বিচ্ছেদ বিরহের কাতরতা যখন দীর্ঘ সময়ের পর একটু শুকোতে শুরু করে তখন হঠাৎ পূর্বস্মৃতি মনে পড়লে আবার ক্ষত ছুঁয়ে যায় দ্রুত। সেকেন্ডে সেই অনুভূতি ফিরে আসে সুগম সড়ক পথের মতো।
‘অন্ধকারের গুঢ় রহস্য’ আপনার কাছে কীরকম?
গূঢ় রহস্য মানে আমাদের যেটা সহজলভ্য নয়। সেটা আমার কাছেও যে পুরোপুরি স্পষ্ট তা নয়। তাই রহস্য শব্দে রেখেছি। অন্ধকারকে কেবল মন্দ কিছু বলেই ক্ষান্ত থেকে যাই বা এড়িয়ে যাই। যেন অধিক সময় খরচ করার মতো কিছু নেই। কিন্তু অন্ধকারই আলোর উৎস। তাছাড়া মহাজাগতিক ঘটনা অন্ধকারেই প্রত্যক্ষ করি।
‘শৃঙ্গার’ কবিতায় ঈশ্বর ও প্রকৃতির মধ্যে কোথাও একটা সহাবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বা সমর্পণের। কবিতার নামকরণও যৌন ব্যঞ্জনাময়। সংক্ষিপ্ত এই কবিতা অদ্ভুত দৃষ্টিতে প্রকৃতিকে চিনতে শেখায়। কী বলবেন?
হ্যাঁ। যৌনতা আছে। তবে গতানুগতিক ভাবনাকে ভাঙতে চেয়েছি। আসলে জৈবিক চাহিদা তো প্রাকৃতিক বিষয়ের মধ্যেই পড়ে। এই কবিতাটিতে আর একটি বিষয় লক্ষ করলে দেখবেন ফুল বা অর্পণের দ্রব্য সব স্ত্রী-নামের। এবার যে বিষয়টি আমি তীক্ষ্ণ করতে চেয়েছি সেটি প্রাতিষ্ঠানিকতা। প্রকৃতির ফুলের সঙ্গে প্রকৃতির সহাবস্থান হওয়া স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তার অধিকার সবার আগে মন্দিরের বিগ্রহের। বাসি হলে তবে জলে দেওয়া হয়। আর বাঁশ বাগানকে অধিক কৌতূহলী হিসেবে দেখাতে চেয়েছি। এটা আর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব না। পাঠক বুঝে নেবেন।
এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। নিজেকে কবি বলে মানেন? লেখালেখির সময় কখন? প্রতিদিন লেখেন? কী মনে হয়,রোজ লেখা নিয়ে বসা উচিত? রেওয়াজের মতো?
না। ‘কবি’ শব্দটির বিস্তার অনেক। আমি ধারে কাছে নেই। কবিও একটি সাধনার নাম। হয়ে উঠতে হয় জীবনভর।
লেখালেখির নির্দিষ্ট কোনো সময় মেনেই যে হয় তা নয়। ট্রেনে বাসে যেতে যেতেও ভাবনা মাথায় এলে সেগুলো তুলে রাখি। পরে কাটা ছেঁড়া করি। তাই আমি ওই সময়টাকেও লেখার সময় বলা থেকে বাদ দিতে পারি না।
প্রতিদিন লিখি না। মানে লিখতে পারি না। লেখা আসে না। হ্যাঁ। অবশ্যই, রেওয়াজের মতো প্রতিদিন বসি। সাদা পাতার সামনে। এটা এমন এক চর্চার বিষয় আপনি এক হাত সরে গেলে ও আপনার থেকে আরো দশ হাত দূরে সরে যাবে। তাই লিখতে পারি বা না পারি, বসি।
জনপ্রিয় কবিতায় বিশ্বাস করেন?
জনপ্রিয় কবিতা বলতে কোন ধরনের কবিতা বা কেমন কবিতা বলা হচ্ছে সেটা পরিষ্কার করতে হবে। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাব?’ বা ‘অবনী বাড়ি আছো?’-র মতো কবিতা জনপ্রিয়। দেখতে হবে কাকে জনপ্রিয় বলছি। কীসের নিরিখে। জনশ্রুতি নয় কিন্তু। তাই কবিতার দৃষ্টান্ত উল্লেখ না করলে জনপ্রিয় কবিতায় বিশ্বাস করি কি না এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন।
আবৃত্তি কি কবিতার ক্ষতি করে?
এটা আবৃত্তিকারের বোধের উপর, সম্যক জ্ঞানের উপর নির্ভর করে। তাছাড়া সব কবিতাই তো আবৃত্তিযোগ্য নয়। কিন্তু যারা আবৃত্তিকার (সবাই নন। কবিতা পড়া আর আবৃত্তি এক জিনিস নয়। যদিও কাহিনি কবিতাই বেশি আবৃত্তি হতে শোনা যায়।) তারা যদি কবিতায় একাত্মবোধ ও সম্যক ধারণা অর্জন করে আবৃত্তি করেন সেটা অন্য মাত্রা একেবারেই যে দেয় না এটা বললে দাম্ভিকতা প্রকাশ করা হবে। শম্ভু মিত্রের আবৃত্তি শুনে দেখবেন। শঙ্খ ঘোষের আবৃত্তি শুনবেন। গৌরী ঘোষ, পার্থ ঘোষের আবৃত্তি শুনে দেখা যেতে পারে।
এই সময়ের আপনার প্রিয় পাঁচজন কবির নাম বলুন।
খুব কঠিন প্রশ্ন। মাত্র পাঁচ জনের নাম বলাটা খুব মুশকিল। সদ্য প্রয়াতদের নাম আমি বাদ দিতে পারব না। দেবদাস আচার্য (সদ্য প্রয়াত)। রাহুল পুরকায়স্থ (গত বছর প্রয়াত)। নির্মল হালদার। কালীকৃষ্ণ গুহ। অরণি বসু।
শেষ প্রশ্ন, কবিতাকে ঠিক কোন বিন্দুতে শিল্প মনে হয়?
অনেকেই মনে করেন কবিতা মানে আবেগ ঢেলে দেওয়া। কিন্তু টি. এস. এলিয়ট বলেছিলেন, কবিতা হলো আবেগ থেকে মুক্তিরও এক প্রক্রিয়া।
অর্থাৎ শিল্পী ব্যক্তিগত যন্ত্রণা বা অভিজ্ঞতাকে এমনভাবে নির্মাণ করেন, যাতে তা ব্যক্তিগত না থেকে সর্বজনীন হয়ে ওঠে। এই অনুভবের ঘনত্বই তাকে শিল্পে পরিণত করে।