সোমবার | ১৮ মে ২০২৬

গুন্ডামি, অশান্তিতে জিরো টলারেন্স, পার্ক সার্কাস থেকে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

 গুন্ডামি, অশান্তিতে জিরো টলারেন্স, পার্ক সার্কাস থেকে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

পার্ক সার্কাসে ডিসি অফিসে শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা, ১৮ মে– পুলিশের ওপর আক্রমণ কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না, সোমবার পার্ক সার্কাসে ডিসি অফিসে গিয়ে এই হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দুপুরে অশান্ত হয়ে ওঠে পার্ক সার্কাস চত্বর। রাজ্য সরকারের বুলডোজ়ার ‘নীতি’র প্রতিবাদে নামেন কয়েকশো মানুষ। তাদের রাস্তা থেকে পুলিশ সরতে বললে শুরু হয় অশান্তি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করে প্রথমে। অন্য দিকে, পুলিশ জানায় অতর্কিতে তাদের উপর ইটবৃষ্টি হয়। ভাঙচুর করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি। পরিস্থিতি সামলাতে বিশাল বাহিনী নামে।

            তারপরেই সোমবার পার্ক সার্কাসে গিয়েই শুভেন্দু স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তার সরকারের আমলে এটাই পুলিশের উপর প্রথম আক্রমণ এবং এটাই শেষ। এর পর কোনও পুলিশকর্মীর গায়ে আঘাত হানলে আইন অনুযায়ী যত দূর যেতে হয়, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তিনি যাবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আইনসম্মত ও যুক্তিসঙ্গতভাবে নিজেদের দাবি পেশ করতে পারেন। ওসি, আইসি কিংবা সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ বা প্রতিনিধিত্ব জানানোর পূর্ণ অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু ধর্মীয় স্লোগানের আড়ালে পাথরবাজি, ভাঙচুর, হুলিগানিজম বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। 

            তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরেও পাথরবাজি বন্ধ হয়ে গেছে, পশ্চিমবঙ্গেও এই সংস্কৃতি চলবে না। পুলিশের গায়ে হাত পড়লে সরকার আইন অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেবে। শুধু গ্রেফতার নয়, দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত সরকার নজর রাখবে।’ পার্ক সার্কাসের ওই ঘটনায় আহত পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন এসিপি চিত্রদীপ পান্ডে, ইনস্পেক্টর রাজেশ কুমার সিং, এএসআই শ্যামল কুমার ঘোষ, কনস্টেবল শাহজাদা সেখ, কনস্টেবল তরুণ কুমার দাস এবং সিবি অনির্বাণ মজুমদার সহ আরও অনেকে। দুজন সিআরপিএফ জওয়ানও আহত হয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কে কোন দল বা ধর্মের মানুষ, তা ভেবে দ্বিধায় পড়ার কোনো কারণ নেই। পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করবে, সরকার সম্পূর্ণভাবে তাদের পাশে আছে।’ তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার স্বয়ং তদন্ত পর্যবেক্ষণ করছেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং সামাজিক মাধ্যমে আগাম প্রচারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। 

            মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেঙ্গলে ভয় আউট, ভরসা ইন। পশ্চিমবঙ্গে গুন্ডাগর্দি, পাথরবাজি ও ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে অরাজকতা আর চলবে না। জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে সরকার এগোবে।’ হুঁশিয়ারির সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ মনে করে থাকেন আগের সরকার আছে, আগের নিয়ম আছে আর পুলিশকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়া হবে— তাহলে ভুল করবেন। এই ধরনের অশান্তি ও গুন্ডামিতে আমাদের ‘জ়িরো টলারেন্স’। কোনও অ্যান্টি-ন্যাশনাল বা অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি চালাতে দেওয়া হবে না।’ অভিযুক্তদের উদ্দেশে তার চূড়ান্ত বার্তা, ‘আপনারাও কান খুলে শুনে নিন, এটাই শেষ ঘটনা। এর পর এমন ঘটনা ঘটলে, আমার থেকে খারাপ কোনও পুলিশমন্ত্রী হবে না।’  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *