সোমবার | ১১ মে ২০২৬

সাক্ষাৎকার : ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প

 সাক্ষাৎকার : ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফি মূলত এমন এক ধরনের আলোকচিত্র চর্চা, যেখানে মানুষের শারীরিক সীমা, প্রকৃতির রুক্ষতা এবং অভিযাত্রার গল্প একসঙ্গে ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে। পাহাড়ে আরোহন, গভীর জঙ্গলে ট্রেকিং, উত্তাল নদীতে রাফটিং কিংবা তুষারঢাকা পথে অভিযাত্রা— সবটাই এই অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফারের কাজ। এই ধারার ফটোগ্রাফিতে শুধু সুন্দর দৃশ্য নয়, বরং একটি যাত্রার গল্প গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্লাইম্বারের মুখে আতঙ্ক ও দৃঢ়তার মিশ্র অনুভূতি, ট্রেকারের ক্লান্ত পা, অথবা দূর পাহাড়ের আলো–ছায়ার খেলা— এসবই ছবিকে অর্থবহ করে তোলে। সায়নদীপ এই নামটা রাজ্যের অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফিতে যারা আগ্রহী তারা জানেন।
কিন্তু অনেকেই জানেন না। সায়নদীপ রায় নেটজিও’র হয়ে অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফার। কীভাবে এই ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত হলেন, সমস্ত অভিজ্ঞতার কথা জানতেই তার সঙ্গে আলাপচারিতায় নন্দিতা দত্ত

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফির মূল বিষয়টা সাধারন ফটোগ্রাফি থেকে কেন আলাদা?
অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফির জন্য ফটোগ্রাফির মৌলিক জ্ঞান অপরিহার্য। শাটার স্পিড, অ্যাপারচার ও আইএসও-এর সঠিক ব্যবহার না জানলে চলমান মুহূর্ত ধরা সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক আলো, আবহাওয়া ও পরিবেশ বুঝে ফ্রেম তৈরি করার দক্ষতাও অত্যন্ত জরুরি।
এই ক্ষেত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি। এডভেঞ্চার ফটোগ্রাফারকে অনেক সময় দুর্গম পথে হাঁটতে হয়, চরম ঠান্ডা বা উচ্চতায় কাজ করতে হয়। তাই ট্রেকিং, ক্লাইম্বিং কিংবা জলক্রীড়ার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ থাকলে কাজ অনেকটাই সহজ হয়। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি।
নিরাপত্তা অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক সেফটি গিয়ার ব্যবহার, রোপ টেকনিক সম্পর্কে ধারণা, আবহাওয়ার পরিবর্তন বোঝার ক্ষমতা এবং বেসিক ফার্স্ট এইড জ্ঞান—এসব না থাকলে এই কাজ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এখানে একটি মূলনীতি হলো—নিজের নিরাপত্তা আগে, ছবি পরে।
গিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। আবহাওয়া-প্রতিরোধী ক্যামেরা, হালকা ও শক্ত লেন্স, অতিরিক্ত ব্যাটারি, ড্রাই ব্যাগ—এসব ছাড়া দূরবর্তী অভিযানে কাজ করা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাকশন ক্যামেরা বা ড্রোন ব্যবহার করা হয়, তবে তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি ও নিয়ম মানা অত্যন্ত জরুরি।

‘অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফি’কে কেরিয়ার করতে হলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কী?
অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফিকে কেরিয়ার হিসেবে নিতে হলে ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করা ভালো—যেমন পাহাড়ি অভিযান, জলভিত্তিক অ্যাডভেঞ্চার বা জঙ্গলভ্রমণ। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি করতে হয়, যেখানে শুধু আলাদা আলাদা ভালো ছবি নয়, বরং পুরো অভিযানের ধারাবাহিক গল্প ফুটে ওঠে।

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফার কে কেন বিশেষ হতে হয়?
অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফি হলো ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার মুখোমুখি কঠিন পরীক্ষা। এখানে সাফল্য ধীরে আসে। কিন্তু যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে, ঝুঁকিকে সম্মান করতে জানে এবং গল্প বলতে পারে—তাদের হাতেই এই ধারার ছবি সত্যিকারের অর্থ খুঁজে পায়।

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফির শখ কীভাবে হলো?
খুব ছোটোবেলায় টিনটিনের কমিকস , একটু বড় হয়ে ফেলুদা কাকাবাবু এই সমস্ত চরিত্র খুব আকর্ষণীয় ভাবে টানত। সিনেমা দেখে বা গল্পের বই পড়ে, যে দৃশ্য তৈরি হতো,দৃশ্যটা কল্পনা করে মাথায় ছবিগুলো ঘুরতো।পরে বড় হয়ে অ্যাসাইনমেন্টের ক্ষেত্রে এই ভাবনাগুলো জুড়ে যেত।

ছবি তোলার শুরুর কথা…
৪/৫ বছর হবে,বাবার কোডাক ক্যামেরায় ক্লিক করি।আমি ছোট ছোট জিনিসের ছবি তুলতাম।ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় নেটজিও বা কোনো একটা কিছুর বিজ্ঞাপন দেখে মনে হয়েছিল আমার তোলা সেরকম কিছু ছবি থাকলে আমিও অংশ নিতে পারতাম।সেই সময় হয়তো বা অন্যরকম ছবি তোলার খিদেটা জেগেছিল।

এরপর কীভাবে এগিয়ে চলা ?
তখন ক্লাস এইট।একটা সাইবার শট ক্যামেরা আমার জন্য কেনা হলো।আমি খুব মনোযোগ দিয়ে ক্যামেরার লিটারেচার পড়েছিলাম।এ টু জেড।যা পেতাম তাই ছবি তুলতাম। সেই সময়ে রাজবাড়ির ছবি তুলি,যা আমার ডেক্সটপের ওয়ালপেপার করি।

গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা সায়নদীপকে জনসমক্ষে পরিচিত করালো?
ভারতীয় বিদ্যা ভবনের ছাত্র আমি।তখন ক্লাস টেনে পড়ি।স্কুলের প্ল্যাটিনাম জুবিলি।সেই সময় আমি ডিএস এল আর এ প্রথম ছবি তুলি।স্কুলের খাতার কভারে আমার তোলা ছবি,এটা আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফি তে ইন্টারেষ্ট এলো কীভাবে?
প্রাইমারি ইন্টারেষ্ট ছবির মধ্য দিয়ে গল্প বলা,ছবি দেখতে গেলে সেটাই খুঁজতাম।ছবির মধ্য দিয়ে সচেতন করা এই পাওয়ারটা গড়ে উঠলে, মন সেভাবেই ভাবতো। সাবজেক্ট মিলিয়ে তারপর দেখা। নজরবন্দী তারপর সাটার ক্লিক।একটা ছবি একটা মানুষকে বা সোসাইটিকে সচেতন করতে সাহায্য করে। এই ভাবনাটা গেঁথে গেল মনের মধ্যে। সিনেমা দেখে আমি এই কম্পোজিশন কী করে করতে হয়,তা শিখেছি। কোনো কম্পিটিশন নয়, ছবি থেকে পাবলিকেশনে ইন্টারেস্ট গ্রো করে, তখন বিশ্বখ্যাত ‘ল্যান্স কালচারে’ ফটো রিভিউতে দিই।
দ্বাদশে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে সিমবায়োসিস স্কুল অব ফটোগ্রাফিতে যাই। কিন্তু যা শিখতে চাইছি,সেটা পাচ্ছিনা।যারা ডকুমেন্টারি কাজ করেন এমন কাউকে বলতে হবে। তারা যা ছবি তুলেছে,আমি তেমন পারছি কিনা।নিজেকে মাপতে শুরু করি।আমি কিভাবে ইমপ্রুভ করবো, কোথায় ইমপ্রুভ করতে হবে।
ডকুমেন্টারিতে যারা আমার ইনসপিরেশন তাদের ছবি দেখি ইউটিউব ঘেঁটে ঘেঁটে।।সৌম্য খান্ডেলয়াল,দীপ্তি আস্থানা, অতুল লোকে তাদের কাজ দেখতাম।তারা নিউইয়র্ক টাইমস, ন্যাশানাল জিওগ্রাফিতে কাজ করেন কী করে? নেট জিও-তে লাইভ টক শো দেখে জানতে পারি অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফি বলে কিছু আছে। ২০১৯-এ দিল্লিতে গিয়ে জানলাম বোল্ডার বক্সের কথা। যা মূলত ইনডোর ক্লাইম্বিং জিম। যেখানে বড় বড় পাথরের মতো দেয়ালে চড়া যায়। বিভিন্ন উচ্চতার দেয়াল, গুহা স্টুডিতে থাকে। সেখানে মূলত দড়ি ছাড়া ছোট উচ্চতার দেয়ালে চড়া বা ফিটনেসের জন্য ব্যবহার করা হয়।

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফির সঙ্গে রক ক্লাইম্বিংয়ের সম্পর্ক কোথায়?
ক্লাইম্বিং-এর ছবি দেখেই ফটোগ্রাফির কাজ পেতে দিল্লিতে যাই। রক ক্লাইম্বিং-এর ছবি তুলতে হলে বিষয়টা আমাকে জানতে হবে। ক্লাইম্বাররা কীভাবে ওঠে সেটাতে ইন্টারেস্ট বাড়লো। জ্যামিয়াং তেনজিং(হিমালয় অঞ্চলে পর্বতারোহনের নতুন রুট আবিষ্কারক ও রক ক্লাইম্বিং-এ ভারতীয় জনপ্রিয় প্রশিক্ষক) ‘সুরু ভ্যালি’ আউটডোর ফেস্টিভাল করেন লাদাখে। ২০১৯ তিনি বিগিনার্সদের নিতেন।

সুরুভ্যালির এক্সপিডিশান সম্পর্কে একটু ডিটেল জানতে চাই।
বোল্ডারিং থেকে বিগ ওয়াল ক্লাইম্বিং, যার মধ্যে অন্যতম হলো মনোমুগ্ধকর সুরু ভ্যালি। উত্তর লাদাখ অঞ্চলে অবস্থিত এই উপত্যকাটি তুষারাবৃত শৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত এক আলপাইন স্বর্গ— যেখানে সব দক্ষতার ক্লাইম্বারদের জন্য অগণিত গ্রানাইট বোল্ডার রয়েছে। সেখানেই ক্লাইম্বিং। এই অভিযান বা অভিজ্ঞতা অন্য একটা জগতকে চিনিয়েছে।

সুরু ভ্যালির আগে এবং পরে রোমাঞ্চকর ‌অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাই।
শুরু ভ্যালীতে আমি প্রথম গেছিলাম ২০১৯ সালে। ২০১৯ সালে প্রথম আমি ওখানে রক ক্লাইম্বিং এর ছবি তোলা শুরু করি। তারপর আমি বুঝতে পারি এখানে যে রকমের ছবি আমি তুলতে পারছি এবং এখানে যে ঘটনাগুলো দেখছি সেগুলো ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ট্রাভেলের ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনে দেখানোর মতো।(ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন দেখেছি) আমি বুঝতে পারলাম যে এই গল্পটা ওই ম্যাগাজিনের জন্য একদম ঠিক। আমি ফিরে আসার পর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ট্রাভেলার ইন্ডিয়ার এডিটরদেরকে ইমেইল করলাম। তাদের এই ছবিগুলো পছন্দ হলো। সেই থেকে আমি বুঝতে পারলাম রক ক্লাইম্বিং এবং অ্যাডভেঞ্চার রিলেটেড ষ্টোরি আরো করা যেতে পারে ইন্ডিয়াতে। আমি তখন থেকে আরো বেশি এই ধরনের কাজ করা শুরু করলাম।
অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক ছোটবেলা থেকেই। ২০১৯ থেকে আমি শুরু করি এবং তারই সঙ্গে রক ক্লাইম্বিং-এর ছবি তোলা শুরু করি। ট্রেকিংয়েও আমার খুব আগ্রহ ছিল তাই আমি যখনই পারতাম টাকা জমিয়ে ট্রেকিংয়ে চলে যেতাম এভাবেই আমার পাহাড়ে ছবি তোলার একটা অভ্যাস তৈরি হয়। সেই সঙ্গে আমি শিখতে শুরু করি কী করে নিজেকে তৈরি করতে হবে। পাহাড়ে ছবি তোলার জন্য ফিটনেস একটা বড় ব্যাপার। নিজেকে কীভাবে সবসময় রেডি রাখতে হয় সেটা অভ্যাস করতে শুরু করি। আমার মনে পড়ে ‘পিন ভাবা পাস’ ট্রেক করার সময় আমি (২০২১) সেবার সবচেয়ে উঁচু জায়গায় পৌঁছাতে পারি। সেটার জন্য আমাকে ৩০মিনিটে ৫ কিলোমিটার দৌড়ানোর অভ্যাস করতে হয়েছিল। তখন থেকে থেকেই আমি নিজের শরীরের এবং ফিটনেসের খেয়াল রাখা শুরু করি। যেটা রক ক্লাইম্বিংয়েও খুব সাহায্য করেছে।

সুরু ভ্যালির পরের অভিজ্ঞতা
২০১৯ প্রথম যাই।এরপর ২০২৪ অব্দি সুরু ভ্যালিতে আমি অনেকবারই গেছি ।এরপর ওমান যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়েছে। বেদাঙ্গী কূলকার্নী বলে একজন সাইক্লিস্ট সারা বিশ্বে সাইকেল চালিয়ে যখন ওমান পৌঁছলো সেখানে তার সাইকেল চালানো অভিযানের ছবি তোলার জন্য আমাকে যেতে হয়। ওর ওমানে সাইকেল চালানোর ছবিগুলো তুলতে গেছিলাম।। এছাড়াও আমি নেপালে গেছিলাম ট্রেক করতে। নেপালে ‘মার্ডি হিমাল’ নামক একটি ট্রেক আছে, সেই ট্রেক আমার খুবই ভালো লেগেছিল। সেই ট্রেকটি আমি ‘অ্যাডভেঞ্চার ডটকম’ নামক একটি পাবলিকেশন-এর জন্য ডকুমেন্ট করতে গেছিলাম।

এডভ্যান্চার ফটোগ্রাফি ভীষণ এক্সপেন্সিভ -সবসময় কি স্পন্সর শিপ থাকে? নাকি নিজের ভালোলাগার সঙ্গে কাজটা করা?
অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফি সবসময় খুব এক্সপেন্সিভ না হলেও বেশিরভাগই এক্সপেন্সিভ। কিন্তু সেটা করার জন্য সবসময় স্পনসরশিপ পাওয়া যায় না। শুরু করার জন্য আর্থিক সাপোর্ট নিয়েছি মা-বাবার কাছ থেকে। কিন্তু অনেক সময় মানুষ বিভিন্ন ভাবে এগিয়ে আসেন। খুব কম হলেও এটাও সম্ভব বিনা স্বার্থে একজন অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এমন কেউ কেউ এগিয়ে আসেন। এছাড়া খুঁজে বার করতে হবে নিজেকে একজন প্রাথমিক স্পন্সর। যার সেই ফটোগ্রাফারের কিছু কাজ ভালো লাগলে তবেই স্পন্সর শিপ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কখনো কখনো নিজের ভালোলাগার কাজগুলো স্পন্সর শিপ ছাড়াও করা জরুরি কারণ সেগুলো থেকেই ভবিষ্যতে আরো কাজের সুযোগ আসে।

কোন কোন ক্ষেত্রে স্পনসর শিপ ছাড়া কাজ করা উচিত ?
যদি কাজটি থেকে কোন রকমের ইমপ্রুভমেন্ট না হয় তাহলে সেই কাজটা করা উচিত না । স্পন্সরশিপ ছাড়া তখনই কাজ করা উচিত যখন কাজটি হয়ে যাবার পর আর্থিক লাভ হয় অথবা এক্সপেরিয়েন্স বাড়ার সুযোগ থাকে।

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফারের ফিউচার ভিশন সাধারণত কি নির্ধারিত থাকে?
অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফিতে সব কিছু আগেভাগে পরিকল্পনা করা যায় না। একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা জরুরি, তবে তার সঙ্গে অজানার জন্য প্রস্তুত থাকাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এলে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা জরুরি।

‘মৎ কি কুয়া’ ছবি একটি সাড়াজাগানো কাজ। এই ছবিটি তোলার ইচ্ছে কীভাবে হলো?
‘মৎ কা কুয়া’ একটা ইভেন্ট। যেটা আমি ছোটবেলা থেকেই দুর্গাপূজার সময় দেখেছি। এই খেলাটিতে মোটরবাইক নিয়ে লোকেরা একটি প্রায় পার্পেন্ডিকুলার ওয়ালে বাইক চালায় এবং কোন রকমের সেফটি ছাড়া। আমি যখন পাহাড়ে যাই সবকিছুই খুব সাবধানে করি। আমাদের গাইড থাকেন। আমাদের সেফটি গিয়ার থাকে। আমরা কখনোই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি না। কিন্তু এরা জীবন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সামান্য রোজগারের জন্য এই কাজটি করে।
এটা দেখে আমার মনে হয়েছে এটা একটা প্রোজেক্ট হিসেবে ডকুমেন্ট করা দরকার। এটার ‘ফটোএসে’ ‘পিপলস আর্কাইভ ওব রুরাল ইন্ডিয়া’ওয়েব সাইটে বের হয়।পরবর্তী কালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইস্যুতে ক্যাপশন-সহ একটি ছবি বের হয় ।এটা আমার কাছে একটা বিরাটি প্রাপ্তি।

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফিতে আমাদের রাজ‌্যের মেয়েরা কতটা ইন্টারেস্টেড?
আমি বেশ কিছু মেয়েদের দেখেছি যারা অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফিতে ইন্টারেস্টেড কাজ ও করছে।কিন্তু আমি জানিনা কে কতটা সিরিয়াসলি বা প্রফেশনালি এটাকে নিতে চায় আমার জানা মতে এই কাজটি কেউ করছে কিনা জানিনা।তবে হয়তোবা অদূর ভবিষ্যতে কেউ না কেউ অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফিতে ও আসবে।এখন তো কোন কাজ জেন্ডার নির্ভর নয়।

ভবিষ্যতে কী করতে আগ্রহী?
ভবিষ্যতে আমি মূলত দুই রকমের কাজ আরো বেশি করতে চাই। এখন অব্দি আমার কাজ মূলত ছবি তোলা এবং ভবিষ্যতে আমি নিজে একজন পর্বতারোহী হিসেবে আরো পাহাড় চড়তে চাই। আর দ্বিতীয়তঃ আমি ড্রোনের মাধ্যমে অনেক কাজ করতে চাই যাতে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়াকে নতুন ভাবে দেখতে পারি এবং নতুন কিছু দেখাতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *