মোদি-শাহের উপস্থিতিতে বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ শুভেন্দুর
ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে
কলকাতা, ৯ মে- ২০১১ সালে বাংলায় তৃণমূল সরকার শপথ নেওয়ার পরে একুশে জুলাইয়ে শহীদ সমাবেশ হয়েছিল ব্রিগেডে। ঠিক তার পনেরো বছর পরে সেই ব্রিগেড থেকেই শনিবার বঙ্গে প্রথম বিজেপির সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হল। আর সেই অনুষ্ঠানে বিজেপির সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির একঝাঁক মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্রিগেডে ইতিহাস গড়ল বিজেপি।
শুক্রবার বিধায়কদলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলের নেতা হন শুভেন্দু। তারপরেই রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে সরকার গড়ার আবেদন জানান। আর শনিবার ব্রিগেডে শুভেন্দুকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আজ শপথ নিয়েছেন তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম পাঁচ সদস্য। তাঁরা হলেন, দিলীপ ঘোষ, খড়্গপুর সদরের জয়ী বিধায়ক। শুভেন্দুর পরই দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে শপথ নেন তিনি। এরপরে ছিলেন, অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দক্ষিণ থেকে জিতে বিধানসভায় আসা অগ্নিমিত্রা আজ ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। এছাড়া ছিলেন, অশোক কীর্তনিয়া বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক। মতুয়া গড় থেকে মন্ত্রিসভায় বড় প্রতিনিধিত্ব। আদিবাসী মুখ বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। সব শেষে ছিলেন, নিশীথ প্রামাণিক। কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে জিতে সরাসরি মন্ত্রিসভায় নিশীথ।
ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনও ছিল চমকপ্রদ। হেলিকপ্টার থেকে নেমে হুডখোলা গাড়িতে করে জনগণের মধ্যে দিয়ে মূল মঞ্চের সামনে আসেন মোদি। চমকের এখানেই শেষ নয়, মঞ্চে উঠে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সামনে মাথা নত করে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন। সেই প্রণামের ভিডিয়ো তার সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও পোস্ট করা হয়েছে। ফেসবুকে এই ভিডিয়ো পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গের জনশক্তির কাছে মাথা নত করছি।’ যেহেতু আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিবস তাই মঞ্চের ওপরেও তাঁর একটি প্রতিকৃতি রাখা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মোদি।
এদিনের এই হাইভোল্টেড শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন থেকে শুরু করে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, চিরাগ পাসোয়ান, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
আজকের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন ৯৭ বছরের এক বৃদ্ধ মাখনলাল সরকার। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাশ্মীর যাত্রার সঙ্গী ছিলেন তিনি। সেসময় জেলও খেটেছেন তিনি। শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিকে আগলে রেখে তিনিও বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে বুনেছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তব হওয়ায় তার চোখও জ্বলজ্বল করেছে। তাকে মঞ্চে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। শাল, উত্তরীয় জড়িয়ে তাকে সম্মানিত করেন।
শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে কবিগুরুর মূর্তিতে মাল্যদান করেন। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘বাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা হারিয়ে গিয়েছে। আমরা বাংলাকে নবনির্মাণ করব। অনেক দায়িত্ব। এখন একে অপরের সমালোচনার সময় নেই।’’