বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬

কোল্ড ড্রিঙ্কস সঙ্গে চিপসে মন আর মোবাইল স্ক্রিনে চোখ,শিশু বয়সে স্থূলতা ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে, বাড়ছে ডায়াবেটিসের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক!!

 কোল্ড ড্রিঙ্কস সঙ্গে চিপসে মন আর মোবাইল স্ক্রিনে চোখ,শিশু বয়সে স্থূলতা ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে, বাড়ছে ডায়াবেটিসের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক!!

দৈনিক সংবাদ অনলাইন প্রতিনিধি:-ভারতের শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে মফস্বল- স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে স্থূলতা বা ‘চাইল্ডহুড ওবেসিটি’ এক নিঃশব্দ মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ কমিউনিটি মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি সামগ্রিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ভারতের স্কুলগামী শিশুদের একটি বিশাল অংশ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার শিকার।

এই গবেষণায় ১২৫টি আলাদা সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, শিশুদের মধ্যে ওবেসিটির গড় হার ৬.৯৭ শতাংশ। তবে অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতাকে একত্রে হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

আঞ্চলিক ও সামাজিক বৈষম্য গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ভারতের শিশুদের মধ্যে ওবেসিটির হার সবচেয়ে বেশি (৮.৫৮%), যেখানে মধ্য ভারতে এই হার সবচেয়ে কম (৫.৬৩%)। দেখা গিয়েছে, মূলত শহরের সচ্ছল পরিবারের শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। আধুনিক জীবনধারা, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এই শিশুদের ওজনের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

বিশেষজ্ঞরা ওবেসিটি বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমটি অস্বাস্থ্যকর ডায়েট। ক্যালোরি-বেশি কিন্তু পুষ্টিগুণ-কম এমন খাবার যেমন- প্রসেসড স্ন্যাকস, চিনিযুক্ত পানীয় এবং ফাস্ট ফুডের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের খাদ্যাভ্যাস বদলে দিয়েছে।দ্বিতীয়ত; স্ক্রিন টাইম বনাম খেলাধুলার মধ্যে শৈশবকাল থেকে সংঘাত শুরু হয়ে যাচ্ছে। ‘জার্নাল অফ মেডিসিন অ্যান্ড লাইফ’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে শিশুরা বাইরের খেলাধুলা থেকে বিমুখ হচ্ছে। ফলে ক্যালোরি গ্রহণের তুলনায় তা খরচ করার সুযোগ থাকছে না। আর তৃতীয় কারণ, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ডায়েটিশিয়ানরা,তা হল নগরায়ন। শহরের জীবনযাত্রায় অস্বাস্থ্যকর খাবার খুব সহজেই হাতের নাগালে মিলছে, অথচ শিশুদের জন্য খোলা মাঠ বা ব্যায়ামের সুযোগ কমে আসছে। একদিকে জাঙ্ক ফুডে ব্যাপক পরিমাণে ক্যালোরি গ্রহণ করলেও তা খরচের সুযোগ থাকছে না। এই বাড়তি মেদ জমতে থাকায় ধমনীর প্রাচীর ক্রমশ সরু হচ্ছে। এর ফলে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকবে।

স্থূলতা কেবল সৌন্দর্য বা ওজনের বিষয় নয়, এর সুদূরপ্রসারী স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। ওবেসিটির শিকার শিশুরা খুব অল্প বয়সেই টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হতে পারে। শৈশবের এই বাড়তি ওজন অনেক ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও থেকে যায়, যা জীবনের মান কমিয়ে দেয়।
স্কুলগুলিকে কেবল পড়াশোনা নয়, বরং পুষ্টিশিক্ষা এবং পর্যাপ্ত শরীরচর্চার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারতের বর্তমান প্রজন্মকে অকাল বার্ধক্য বা জটিল রোগের হাত থেকে বাঁচাতে এই ‘লাইফস্টাইল চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলা করা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *